রাতে আছড়ে পড়ার পরে বাংলাদেশে তাণ্ডব ঘূর্ণিঝড় সিতরাং-এর! এখনও পর্যন্ত মৃত ৯, অভিমুখ উত্তর-পূর্ব ভারত
পূর্বাভাস মতো সোমবার রাতে বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় সিতরাং। এখনও পর্যন্ত সেখানে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। স্থলভাগে ছুঁয়ে সিতরাং-এর গতিপথ এখন ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির দিকে। তবে পশ্চিমবঙ্গ
পূর্বাভাস মতো সোমবার রাতে বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় সিতরাং। এখনও পর্যন্ত সেখানে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। স্থলভাগে ছুঁয়ে সিতরাং-এর গতিপথ এখন ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির দিকে। তবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলচবর্তী এলাকায় তেমন কোনও ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

রাতে বাংলাদেশে সিতরাং
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সময় রাত সাড়ে নটা থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে সিতরাং বাংলাদেশের বরিশালের কাছে তিনকোনা ও সন্দীপের মধ্যবর্তী জায়গায় ল্যান্ডফল করে। সেই সময় তার বেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ৯০ কিমি। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ সিতরাং-এর অবস্থান ছিল ঢাকা থেকে ৪০ কিমি পূর্বে, আগরতলা থেকে ৫০ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বাংলাদেশের বরিশাল থেকে ১২০ কিমি উত্তর-উত্তর-পূর্বে।

শক্তি নিয়েই উত্তর-পূর্বে
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-উত্তরট-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এর শক্তি আরও কমবে এবং এদিন সকালে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরবর্তী ছয়ঘন্টায় তা নিম্নচাপে পরিণত হবে।

বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতি
দক্ষিণ বাংলাদেশের খেপুপাড়ার কাছে স্থলভাগে আঘাত হানার পর থেকে সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ে। বাংলাদেশে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়িঘর এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত দেওয়া দেওয়াল চাপা পড়ে এবং বাড়ি ধসে পড়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে কুমিল্লায় ৩, ভোলায় ২, সিরাজগঞ্জে ২ এবং নড়াইল এবং বরগুনায় ১ জন করে মৃত্যুর খবর পাোয়া গিয়েছে। প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘন্টা তাণ্ডব চালানোর পরে ঘূর্ণিঝড় সিতরাং রাতেই বাংলাদেশের সীমা অতিক্রম করে বলে জানা গিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে আশঙ্কা করে বহু মানুষ এবং গবাদি পশুকে আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আগে থেকেই এদিন খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রামের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ আগে থেকেই দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টি
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলির নদীতে জলস্ফীতি ঘটেছে ব্যাপক। যেসব জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ে তার মধ্যে রয়েছে, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, পটুয়াখালি, লক্ষ্মীপুর, চাঁজপুর, নোয়াখালি, ফেনি ও বরিশাল। তবে এইসব জেলায় আগে থেকে সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি বহু মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সোমবার বিকেল থেকে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ফেরি ও নৌকা চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications