গরু ব্যবসায়ীর কর্মীকে হত্যা! রাজস্থান থেকে প্রধান অভিযুক্ত-সহ ৫ জন গোরক্ষককে ধরল কর্নাটক পুলিশ
গরু ব্যবসায়ীর কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার জেরে অভিযুক্তদের রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করল কর্নাটক পুলিশ। পয়লা এপ্রিল গোরক্ষা অভিযানে ইদ্রিস পাশা নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তারপর থেকে পলাতক ছিল গোরক্ষক পুনিত কেরেহাল্লি এবং তার চার সহযোগী।
পুনিত কেরেহাল্লি বাকি সহযোগীরা হল, গোপী, পবন কুমার, সুরেশ কুমার এবং পিলিং আম্বিগার। অভিযুক্ত চারজনই পুনিতের তৈরি রাষ্ট্র রক্ষা পাদের অংশ। সম্প্রতি এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি তৈরি করে পুনিত কেরেহাল্লি।

এদের বিরুদ্ধে কোনও অনুমতি ছাড়াও গোরক্ষার কাজ এবং সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিরোধীরা বলছেন, চাপে পড়েই এই গ্রেফতার। কেননা ১ এপ্রিলের ঘটনার পরে বিরোধীরা শাসক বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করে। ১০ মে হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে হওয়া এই ঘটনায় বিরোধীরা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করার অভিযোগের পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের রক্ষা করারও অভিযোগ তুলেছিল।
৩১ মার্চ শুক্রবার মাদুরের একটি গবাদি পশুর হাট খেরে গরু কিনে গাড়িতে করে ফিরছিলেন বছর ৩৯-এর ইদ্রিশ পাশা। রাতে কনকাপুরার সাথানুরে গরু সমেত গাড়ি থামায় পুনিত কেরেহাল্লি এবং তার দলবল। সেই ঘটনার কয়েকঘন্টা পরে ইদ্রিশ পাশাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরিবারের অভিযোগ মৃতের শরীরে পোড়া দাগ ছিল। তাদের আরও অভিযোগ, স্বঘোষিত গোরক্ষকরা ইদ্রিশকে নির্যাতনের পরে হত্যা করেছে। মৃতের ভাই সাথানুর থানায় পুনিত কেরেহাল্লি এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে হত্যার একটি মামলাও নথিভুক্ত করা হয়। এরপর থেকে পালিয়ে বেরাচ্ছিল অভিযুক্তরা।
পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মৃতদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে পুলিশের তরফে পোস্ট মর্টেমের জন্য অপেক্ষার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশও অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। জানা গিয়েছে অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্র ও গুজরাত হয়ে রাজস্থান পালিয়ে যাওয়ার আগে মোবাইলও সুইচ অফ করে দেয়।

তবে পুনিত কেরেহাল্লি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আপলোড করতে মোবাইল চালু করত। ৪ এপ্রিল সে বিরোধী দলনেতা সিদ্দারামাইয়া এবং এইচডি কুমারস্বামীতে নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করে। গরু যারা মারে, তাদের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগ করে সে। তবে পুনিত কেরেহাল্লির এই পদক্ষেপই পুলিশের কাজকে সহজ করে দেয়।
পুলিশ অভিযুক্তদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে শুরু করে এবং রাজস্থান পুলিশকে বিষয়টি সম্পর্কে জানায়। সেই খবরের ভিত্তিতে রাজস্থান পুলিশ বাঁশওয়ারা থেকে অভিযুক্তদের আটক করে। সেই খবর পাওয়ার পরেই কর্নাটক পুলিশের একটি দল অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে রাজস্থান রওনা হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১০ টির বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications