মুজিবের ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে গরু জবাই করে বিরিয়ানি পার্টি! ওই জমিতেই মসজিদ তৈরির ঘোষণা
Bangladesh: রাতারাতি মুছে ফেলা হয়েছে আস্ত একটা ইতিহাস! ধ্বংসস্তূপে পরিণত শেখ মুজিবর রহমানের সাধের রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি। আর সেখানেই এবার মসজিদ করার হুঁশিয়ারি একদল মৌলবাদীদের। শুধু তাই নয়, ঐতিহাসিক বাড়িটির সামনেই করা হচ্ছে গরু জবাই। চলছে বিরিয়ানি উৎসব। আর এই ছবি সামনেই আসতেই নিন্দার ঝড় উঠছে বাংলাদেশজুড়ে।
এমনকি ইউনূসের উলটো পথে হেটে এই ইস্যুতে মুখ খুলছেন উপদেষ্টারাও। সে দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো'য় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জুলাই ঐক্যজোট নামের একটি সংগঠনের তরফে এই বিরিয়ানি উৎসব পালন করা হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ভেঙে দেওয়ার আনন্দেই চলে এই উৎসব।

শুধু তাই নয়, করা হয় একটি গরু জবাইও। সংগঠনটির মুখপাত্র সাঈদ আহমেদ সরকার ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, 'ওই বাড়ি ফ্যাসিবাদের আইকনিক স্থাপনা'। আর তা ভেঙে দিয়ে ঠিক করা হয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি।
শুধু তাই নয়, বুধবার রাতের পর থেকে কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটা ঘণ্টা! এখনও পর্যন্ত স্মৃতি বিজড়িত রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে অসংখ্য মানুষের ভিড়। সে দেশের সংবাদমাধ্যমে দাবি, ভেঙে ফেলা বাড়ি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে এখনো মানুষজন আসছেন। তাঁদের কেউ কেউ কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।
অনেকে আবার 'বত্রিশ না চব্বিশ, চব্বিশ চব্বিশ', 'ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই', 'দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা'-এমন বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। আবার অন্য ছবিও দেখা গিয়েছে। আরও এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এভাবে ইতিহাস গুঁড়িয়ে দেওয়ায় কিছু মানুষকে চোখের জলও ফেলতে দেখা গিয়েছে। তাঁরা বলছেন, এভাবে দেশের ইতিহাসকে মুছে ফেলে কখনও একটা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না।
ইতিমধ্যে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শেখ হাসিনার। বাড়ি ভাঙা কেন তার বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লিগের তরফেও এই ঘটনায় কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। একটি ফেসবুকে পোস্টে বলা হয়েছে, ''বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়া স্পষ্টতঃ ভ্যান্ডালিজম। এটি জেনোসাইডাল ক্রাইম, আন্তর্জাতিক অপরাধ''। আগামীদিনে আন্তজাতিক আদালতে বিচার হবে বলেও হুঁশিয়ারি আওয়ামী লিগের।
যদিও এই ঘটনার দায় হাসিনার উপরেই চাপিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তাঁর দাবি, ভারতে বসে হাসিনার উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্যেই এই ঘটনা ঘটেছে।












Click it and Unblock the Notifications