অগ্নিমূল্য ভ্যাকসিন! সঙ্কটকালেও বেসরকারি ক্ষেত্রে চড়া দামে বিকোচ্ছে করোনা টিকা
অগ্নিমূল্য ভ্যাকসিন! সঙ্কটকালেও বেসরকারি ক্ষেত্রে চড়া দামে বিকোচ্ছে করোনা টিকা
করোনা ধাক্কায় ইতিমধ্যেই কার্যত তলানিতে নেমে গিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। এমতাবস্থায় নানা দেশ আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়ালেও কোভিডের দ্বিতীয় জোয়ারে পর্যদুস্ত ভারত। করোনা বিস্ফোরণে ছড়াচ্ছে নানাবিধ স্ট্রেন, দুর্বল হচ্ছে অর্থনীতি, ভাঙছে স্বাস্থ্যকাঠামো। এরই মাঝে আমজনতার চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনা ভ্যাকসিনের অগ্নিমূল্য। সরকারি হাসপাতালে সহজে ভ্যাকসিন মেলার কথা থাকলেও অপর্যাপ্ত টিকা। অন্যদিকে বেসরকারি পরিসরে টিকা কিনতে গেলে নিম্নবিত্তের পকেট শূন্য হওয়ার আশঙ্কা যে প্রবল, তা স্পষ্ট সাম্প্রতিক তথ্যেই!

চিন্তা বাড়াচ্ছে ভারতে টিকার দাম
প্রথমে টিকার মূল্য ২৫০টাকার আশেপাশে বলা হলেও বর্তমানে সিরাম ইনস্টিটিউটের 'কোভিশিল্ড'-র দাম গড়িয়েছে ৭০০-৯০০ টাকায়। পাশাপাশি ভারত বায়োটেকের 'কোভ্যাক্সিন'-র দাম ছুঁয়েছে ১,২৫০-১,৫০০ টাকা। কো-উইন পোর্টাল মোতাবেক, বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকাকরণের দায়িত্বে রয়েছে অ্যাপোলো, ফর্টিস, মণিপাল ও ম্যাক্স-র মত খরচসাপেক্ষ হাসপাতাল। আন্তর্জাতিক সূত্রের মতে, বিভিন্ন দেশ যেখানে বিনামূল্যে টিকাকরণ করছে, সেখানে বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকার দামের নিরিখে ভারতে ভ্যাকসিনের মূল্য আকাশছোঁয়া।

বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই বাস্তবে অগ্নিমূল্য ভ্যাকসিন
প্রথম দফায় ১৫০ টাকায় দুইপ্রকারের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রাজ্য সরকার ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করছিল কেন্দ্র। বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকাকরণ চার্জ হিসেবে ১০০ টাকা নেওয়ার অনুমতি ছিল। যদিও বাস্তব চিত্র একেবারেই আলাদা! ম্যাক্স হাসপাতালের এক আধিকারিকের মতে, "জিএসটি, পরিবহন ও মজুতের খরচ ধরে কোভিশিল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৬৭০ টাকা। পাশাপাশি ৫-৬% ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যায়, তাছাড়া টিকা দেওয়ার সময়ে পিপিই কিট সহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে গিয়ে মোট খরচ ৯০০ টাকার কাছাকাছি চলেই যায়।"

ক্রমশ লাভজনক হচ্ছে টিকার ব্যবসা!
ডোজ পিছু মূল্য সিরাম ইনস্টিটিউটের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা হলেও ভারত বায়োটেকের ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণ হয়ে ১২০০ টাকায় দাঁড়াচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই মূল্যের ফারাকে যে বিস্তর গলদ লুকিয়ে রয়েছে, সে বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে ভ্যাকসিন চেয়েও পাচ্ছে না রাজ্য সরকারগুলি। কেরল থেকে দিল্লি, মহারাষ্ট্র থেকে তেলেঙ্গানা, সর্বত্র ভ্যাকসিনের সমবণ্টনে ব্যর্থ কেন্দ্র, সূত্রের খবর এমনই। সরকারি ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের যোগান না থাকলেও বেসরকারি ক্ষেত্রে তা যে নির্বিঘ্নে চলছে, সে বিষয় স্বীকার করছেন বেসরকারি হাসপাতালগুলি।

টিকার বণ্টনে ব্যাপক বৈষম্যের অভিযোগ
এদিকে করোনা আবহে দিন যত গড়াচ্ছে টিকার ঘাটতি ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যের ভাঁড়ারে। একই অবস্থা দেশের ছোটখাটো হাসপাতালগুলিতেও। টিকার বরাতের জন্য যোগাযোগ করা হলে মিলছে না সদুত্তর, এমনকি টিকার অর্ডার পর্যন্ত নিচ্ছে না ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি, এমনটাই জানাচ্ছে তুলনায় ছোট হাসপাতাল ও টিকাকরণ কেন্দ্রগুলি। পিপল'স হেলথ মুভমেন্টের আন্তর্জাতিক কোঅর্ডিনেটর ডঃ টি সুব্রহ্মনিয়মের মতে, "এই নতুন ভ্যাকসিন পলিসির ফলে এক বিশাল বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ছোট হাসপাতালগুলি টিকা পাচ্ছে না, টাকার জোরে টিকা পাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি।"












Click it and Unblock the Notifications