Ahmedabad: বিজেপির 'ছদ্ম-জাতীয়তাবাদ' নিয়ে তীব্র কটাক্ষ, আহমেদাবাদে অধিবেশন কংগ্রেসের
Ahmedabad: মঙ্গলবার আহমেদাবাদে কংগ্রেসের বর্ধিত কর্মসমিতির বৈঠক হয়। এআইসিসি অধিবেশনে বিজেপির সাথে নতুন করে আদর্শিক লড়াইয়ে কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএসকে "ছদ্ম-জাতীয়তাবাদ" (Pseudo-nationalism) অনুসরণকারী এবং "রাষ্ট্র-স্পন্সরিত নিষ্ঠুরতার" ("State-sponsored cruelty") মাধ্যমে জনগণের উপর "চরম অবিচার" চালানোর নীতি তুলে ধরে।
এদিন দেশকে বিজেপির হাত থেকে রক্ষা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রথমদিন বিজেপির অন্যায় থেকে দেশকে ন্যায়ের পথে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প করে কংগ্রেস। 'ন্যায়' (ন্যায়বিচার) দাবি করে কংগ্রেস জোর দিয়ে বলেছে, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে প্রবাহিত তাদের "একীকরণকারী" (Integrator) জাতীয়তাবাদ সংঘ পরিবারের "ছদ্ম-জাতীয়তাবাদ"-এর বিরুদ্ধে, যাকে তারা একটি খসড়া প্রস্তাবে "শোষণমূলক ক্ষমতার জন্য ম্যাকিয়াভেলিয়ান অনুসন্ধান" হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এই কর্মসূচির থিম ছিল 'ন্যায়পথ: সংকল্প, সমর্পণ ও সংঘর্ষ'। বর্ধিত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির একটি সভায় খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মসূচিতে ঠিক হয় দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে, কীভাবে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে প্যাটেল ও জওহরলাল নেহরু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারত তৈরি করেছেন, সেই আখ্যান। 'কৃষকপুত্র' প্যাটেলকে বিজেপি যে ভুয়ো সম্মান করে, দেশবাসীকে তা বোঝাতে সামনে আনা হবে অন্নদাতাদের প্রতি মোদি সরকারের প্রতারণা, অবহেলার বিভিন্ন উদাহরণ।
ঠিক হয়, বিজেপির হাতে হাইজ্যাক হয়ে যাওয়া প্যাটেলকে ছিনিয়ে আনা হবে। ৭ বছর আগে সর্দার প্যাটেলের মূর্তি উদ্বোধনের দিন থেকেই যেভাবে তাঁর প্রতি কংগ্রেসের বঞ্চনা, অপমানের ইতিহাস টেনে লৌহমানবকে কার্যত ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি, তা পুনরুদ্ধার করতে এত বছর পর কোমর বেঁধে নামে কংগ্রেস।
এদিন আরও বলা হয়, জাতীয়তাবাদী পিচের উপর কংগ্রেসের অবস্থান ১৯৯০-এর দশকে বিজেপি-আরএসএস-এর বিরোধী অবস্থানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যখন বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলি গেরুয়া দলকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতাকে তুলে ধরছিল। তখন প্রবীণ লালকৃষ্ণ আদভানি ধর্মনিরপেক্ষ ব্লককে "ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ" আখ্যা দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং বিজেপি-বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে প্রচারণায় এটিই মূল ভিত্তি ছিল।
তবে কংগ্রেস বর্তমানে তাদের প্রতিপক্ষকে হারাতে একই হাতিয়ার ব্যবহার করছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে তারা জোর দিয়ে বলছে যে, ভারতে জাতীয়তাবাদ বহুত্ববাদ এবং উদারনীতির উপর ভিত্তি করে, যেখানে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীর "ছদ্ম-জাতীয়তাবাদ" "সমাজ ও জনগণকে বিভক্ত" করতে চায় এবং "পক্ষপাতদুষ্ট" হয়ে "ভারতের বৈচিত্র্য মুছে ফেলার" লক্ষ্য রাখে।
এদিন স্বাধীনতা আন্দোলনে, বিশেষ করে 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনে সংঘ পরিবারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। দাবি, তারা "জাতীয়তাবাদের জাল সার্টিফিকেট" জারি করছে। "বিজেপি-আরএসএসের ছদ্ম-জাতীয়তাবাদ ক্ষমতার জন্য নিছক সুবিধাবাদী ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের লক্ষ্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতীয়তাবাদ নয়, বরং শোষণমূলক ক্ষমতার জন্য ম্যাকিয়াভেলিয়ান অনুসন্ধান। যেকোনও উপায়ে ক্ষমতা দখল এবং ধরে রাখার জন্য, তারা ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল, ভাষা, পোশাক এবং খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করতে চায়।" খসড়ায় বলা হয়েছে।
এদিকে গুজরাট কংগ্রেসের উপর একটি পৃথক প্রস্তাব থাকলেও, মূল প্রস্তাবে সংবিধান নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক ন্যায়বিচার কংগ্রেসের "আদর্শিক মূল" গঠন করে। কারণ এটি জোর দিয়ে বলে, আদালতের রায়ে সংরক্ষণ বাতিল করার পর দলটি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থা রক্ষার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে।
বর্ধিত কর্মসমিতির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের প্রথমসারির ১৫৮ জন নেতা। অনুপস্থিত ছিলেন ৩৫ জন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। যদিও কংগ্রেসের বক্তব্য, অনেক আগে থেকেই বিদেশে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত কাজ ছিল। সভাপতির কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত আছেন তিনি।
দেশজুড়ে বেকারত্ব বাড়ছে, এই বিষয়কে হাতিয়ার করে রাহুল গান্ধীকে ফের ভারত জোড়ো যাত্রায় নামার প্রস্তাব দিয়েছেন বঙ্গ প্রদেশ সভাপতি। তাঁর প্রস্তাব, এবার রেলপথে বেকার যুবদের ইস্যু নিয়ে দেশভ্রমণে বার হোন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি।












Click it and Unblock the Notifications