হাইকম্যান্ডকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিরাট ঘোষণার পথে পাইলট, কোন রাস্তা নেবে কংগ্রেস
কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের শর্ত যে মনপসন্দ হয়নি শচীন পাইলটের, তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজস্থানে ফিরেই। তিনি রাজস্থানে ফিরেই সমাবেশের পরিকল্পনা করেছেন। ১১ জুন বাবা রাজেশ পাইলটের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তাঁর এই নয়া পরিকল্পনাই রাজনৈতিক মহলে জল্পনার বাতাবরণ তৈরি করেছে যে, তিনি এবার স্বাধীন দল তৈরি করতে পারেন। রাজস্থান রাজনীতিতে নতুন প্লাটফর্ম গড়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। এর ফলে রাজস্থান কংগ্রেসের পরিস্থিতিও খানিকটা পাঞ্জাবের মতো হতে চলেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিলেন অশোক গেহলট ও শচীন পাইটের ঐক্যবদ্ধতায়। রাহুল গান্ধী উভয়কেই এক সূত্রে বাঁধতে পেরেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন থেকে শুরু করে, পরবর্তী নানা সময়ে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। একটা সময়ে কংগ্রেসে আড়াআড়ি বিভাজন হওয়া স্রেফ সমযের অপেক্ষা ছিল।
সেই অবস্থায় রাজস্থানের গড় রক্ষা হয়েছিল। এখন রাজস্থানে ভোট আসন্ন প্রায়। তার আগে কংগ্রেসে আবার ক্ষমতায় দ্বন্দ্বের আবহ তৈরি হয়েছে। হাইকম্যান্ডের আলোচনাকে তাই বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে শচীন পাইলট নতুন সমাবেশের কথা ঘোষণা করতে চলেছেন। নতুন আন্দোলন শুরু করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চলেছে।

কংগ্রেসের সমর্থকরা রাহুল গান্ধীর শেষ মুহূর্তের হস্তক্ষেপে আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু শচীন যে এবার এত সহজে থামার পাত্র নন তা বুঝিয়েই দিয়েছেন। এমনকী তিনি নতুন দল গড়তে চলেছেন বলেও রাজস্থান রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে. ঠিক যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং ও নভজ্যোৎ সিং সিধুর মধ্যে, তেমনই একতানে গেহলট বনাম পাইলট।
রাজস্থানের প্রাক্তন ডেপুটি সিএম শচীন পাইলট প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরা রাজের মেয়াদের সময়ে দুর্নীতির তদন্তের উপর জোর দিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি আমলে ঘটা দুর্নীতির তদন্ত করছে না বলে তাঁর অভিযোগ।

কিন্তু কংগ্রেস হাইকমন্যান্ডকে বারবার বলা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইছে না। এই অবস্থায় কংগ্রেসের সরকারের বিরুদ্ধে তিনি সম্প্রতি অনশনে পর্যন্ত বসেছিলেন। অনশন স্থগিত রাখলেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে আসছেন না। তিনি আন্দোলন জারি রাখছেন। এবং বড়ো সমাবেশের রাস্তায় হাঁটতে চলেছেন।
কংগ্রেস পড়েছে দ্বন্বেন্। শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা কংগ্রেসের। পাইলট তাঁর দাবির বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। রাজস্থান কংগ্রেস থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হলে তিনি নতুন দল গড়ার ব্যাপারে অগ্রণী হবেন। পাইলট সমর্থকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁদের নেতা রাজ্যে থাকার বিষয়ে অনড়। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদ চান তিনি। কেন্দ্রীয় পদ নয়।












Click it and Unblock the Notifications