'মোদী রোকো' ফক্কা! বানপ্রস্থে বরং অকথ্য শব্দকোষ ঘাঁটুক কংগ্রেস

'মোদী রোকো' অভিযানের অন্যতম অঙ্গ ছিল, তাঁকে তেড়ে গালাগালি দেওয়া। সোনিয়া গান্ধী থেকে শুরু করে রাহুল গান্ধী, সলমন খুরশিদ, বেণীপ্রসাদ বর্মা, দ্বিগ্বিজয় সিং কে নেই! শুধু রাজনীতিক স্তরে নয়, কুৎসা করা হয়েছে ব্যক্তিগত স্তরেও।
সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, 'বিষের চাষ' (জহর কি খেতি) করছেন নরেন্দ্র মোদী। কেন? ধর্মের ভিত্তিতে তিনি নাকি মানুষে-মানুষে বিভাজন ঘটাচ্ছেন! ভারতের 'নিরপেক্ষ' ইতিহাস পড়লে কংগ্রেস সভানেত্রী জানতে পারতেন, বিভাজনের রাজনীতি করে তাঁর শ্বশ্রূমাতার বাবা জওহরলাল নেহরু কীভাবে দেশকে ভাগ করেছিলেন! দেশভাগের জেরে দাঙ্গায় যে ১০ লক্ষ নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছিল, তাদের কী দোষ ছিল? ১৯৪৮ সালে নিজামের হায়দরাবাদ দখল করার সময় ২৭-৪০ হাজার নিরীহ মুসলিমকে খুন করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা। হইচই শুরু হওয়ায় তদন্তে গঠিত হয় সুন্দরলাল কমিটি। তার রিপোর্ট প্রকাশ না করে কেন চেপে দিয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু? সেখানেই তো ঘটনাক্রমে দাঁড়ি পড়েনি। শাহবানু মামলায় সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, সাংবিধানিক আদর্শকে অগ্রাহ্য করে যিনি মুসলিম মহিলাদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু কেড়ে নিয়েছিলেন, তিনি রাজীব গান্ধী। এমন উদাহরণের ফিরিস্তি দিতে গেলে আস্ত মহাভারত হয়ে যাবে।
আর কী আশ্চর্য, পণ্ডিত ব্যক্তি বলে যিনি পরিচিত, সেই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-ও বলেছিলেন, "নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এলে বিপর্যয় হবে।" পাছে সুরে সুর না মেলালে 'চাকরি' যায়. সেই কারণে কী? নিয়তির পরিহাস দেখুন, আপনি আজ থেকে ইতিহাস হয়ে গেলেন! বিপর্যয় হল বটে, তবে সেটা আপনার এবং আপনার দলের।
গুজরাতে কোনও উন্নয়ন হয়নি, এটা বোঝাতে গিয়ে রাহুল গান্ধী 'টফি', 'বেলুন' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। সেখানে নাকি 'টফি'-র মতো সস্তা দাম দিয়ে জমি ছিনিয়ে নেওয়া হয় কৃষকদের থেকে! ভোটের ফল বেরোলে গুজরাতে মডেলের 'বেলুন' ফেটে যাবে ইত্যাদি। অথচ ইউপিএ সরকারের সমীক্ষাই বলল, গুজরাতের জমি নীতি দেশে আদর্শ। এখানে কৃষকরা জমির বিনিময়ে ভালো দাম পান, জমিহারাদের পরিবার থেকে একজনকে চাকরি দেওয়া হয়, লেনদেনে দালালদের ভূমিকা নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসার জেরে নিজেদের মুখ পুড়েছে উপলব্ধি করে শিল্পমন্ত্রী আনন্দ শর্মা বলে দিলেন, "ওই সমীক্ষা বেসরকারি কোম্পানি অ্যাকসেঞ্চার করেছে। আমাদের কোনও ভূমিকা নেই।" কিন্তু আপনারাই তো অ্যাকসেঞ্চারকে সমীক্ষা করার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন, তাদের সহায়তা করেছিলেন। সমীক্ষায় গুজরাতের খারাপ দিক তুলে ধরা হলে কংগ্রেস এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করত। এখন তা হলে কেন দায় নেবেন না? আনন্দ শর্মা, জয়রাম রমেশ মায় মনমোহন সিং-ও বলেছিলেন, "দেশের মোদী-লহর নেই।" কোন লহর কাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, এখন সারা দেশ দেখল।
কংগ্রেস বলেছিল, মোদী-লহর নেই। কিন্তু সেই লহরকাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, দেখল দেশ
এ তো তবুও সহনীয়। সলমন খুরশিদ, বেণীপ্রসাদ বর্মা ও দিগ্বিজয় সিং খুব ন্যক্কারজনক ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। সলমন খুরশিদ বলেছিলেন, "নরেন্দ্র মোদী একজন নপুংসক।" তাঁর সতীর্থ বেণীপ্রসাদ বর্মা বলেছিলেন, "নরেন্দ্র মোদী পশু, গুন্ডা, দৈত্য।" কেন তিনি "পশু, গুন্ডা, দৈত্য" তাঁর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় অবশ্য যাননি তিনি। ১৯৮৪ সালে দিল্লিতে নিরীহ শিখদের জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পুড়িয়ে মেরেছিল যারা, তারা আপনার দলেরই লোক। বাচ্চা, মহিলা, বৃদ্ধ কাউকে রেহাই দেওয়া হয়নি। এমন ঘটনা যারা ঘটায়, তারা 'মহামানব' বা 'দেবতা' নয় নিশ্চয়।
মনে রাখা দরকার, ২০০২ সালের গোধরা দাঙ্গায় জড়িতরা গ্রেফতার হয়েছে, তাদের সাজা হয়েছে। আজ পর্যন্ত সেই জল্লাদদের কিন্তু টিকিও ছোঁওয়া যায়নি, যারা নিরীহ শিখদের পুড়িয়ে মেরেছিল। আর গোধরা দাঙ্গার তদন্ত-রিপোর্টে নরেন্দ্র মোদী যখন নির্দোষ প্রমাণিত এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক সেই রিপোর্ট প্রশংসিত হয়েছে, তখন বারবার তার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসই বরং সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদী একটা সময় চা বিক্রি করতেন, তা নিয়েও দিগ্বিজয় সিংয়ের মতো কংগ্রেস নেতারা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন। কী আশ্চর্য! চা বিক্রি করেও কেউ এত দূর পৌঁছেছেন, সেটা বরং প্রশংসনীয়। যারা সোনার চামচ মুখে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের জন্মাবে, তারা বা তাদের পোষ্যরাই কি সব সময় প্রধানমন্ত্রী হবে নাকি?
চা-ওয়ালা' প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় সোনিয়া গান্ধীদের নিশ্চয় বিস্তর রাগ হচ্ছে? তা হোক! জনমত আপনাদের বিরুদ্ধেই গিয়েছে। এখন যখন হাতে সরকারটা নেই, কোনও কাজ নেই, তা হলে অখণ্ড অবসর। এই অবসর সময়ে বরং অভিধান খুলে নতুন গালাগালি বাছুন! পুরোনো গালি সব ক্লিশে হয়ে গিয়েছে তো, তাই!
-
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
বসন্তের শেষে বাড়ছে পারদ! গরমে কী নাজেহাল হবে শহরবাসী? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জানুন -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ












Click it and Unblock the Notifications