কর্নাটক জয়ের মধুচন্দ্রিমা শেষ হতে না হতেই ভাঙনের মুখে কংগ্রেস! কোন পথে পাইলট
২০২৩-এ বিজেপিকে হারিয়ে কর্নাটক পুনর্দখল করেছে কংগ্রেস। এই অবস্থায় ২০২৪-এর আগে রাজস্থান-ছত্তিশগড়ের ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ জয় কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ টার্গেটের দিকে অগ্রসর হওয়ার আগেই বাধ সেধেছে রাজস্থান। বাধা সেধেছেন শচীন পাইলট।
২০১৮ সালে রাজস্থান জয়ের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের সঙ্গে বিবাদ তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটের বিবাদ শুরু। সেই বিবাদ কর্নাটক জয়ের পর মেটাতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু কংগ্রেসের সেই প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিয়েছেন পাইলট।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, শচীন পাইলট সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। তিনি কংগ্রেস ছেড়ে দিতে পারেন। তা হলে রাজস্থানে কংগ্রেস জোর ঝটকা লাগবে। কংগ্রেসের এই ভাঙন নির্বাচনের মুখে বুমেরাং হতে পারে। কংগ্রেসের কাছে শচীনকে ধরে রাখা এই মুহূর্তে কার্যত অগ্নিপরীক্ষা নেতৃত্বের কাছে।
তা না হলে কর্নাটক জয়ে যে অক্সিজেন তারা পেয়েছে, তা বেরিয়ে যাবে। ফের আইসিইউ-তে ঢুকে যাবে কংগ্রেস। একসঙ্গে চার বড়ো রাজ্যের নির্বাচনে এই রাজস্থানে ধাক্কার প্রভাব পড়তে বাধ্য হবে। শচীন যদি কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়েন, তবে তার প্রভাব চার রাজ্যেই পড়বে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট শচীন পাইলট কংগ্রেস ছাড়লেও বিজেপিতে যোগ দেবেন না। তিনি রাজস্থানে নিজের দল ঘোষণা করতে পারেন। বাবা রাজেশ পাইলটের মৃত্যুবার্ষিকীতেই সেই ঘোষণা হতে পারে। এর ফলে কংগ্রেসে বাড়তে পারে সংকট। কংগ্রেস সুবিধাজনক অবস্থা থেকে ছিটকে যেতে পারে রাজস্থানে।
বিজেপিতে নেতৃত্ব সংকট তীব্র হয়েছে, আর কংগ্রেসে রয়েছে গোষ্ঠীকোন্দল। এই অবস্থায় কংগ্রেস কোন্দল মিটিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু শচীন বেঁকে বসেছেন। তিনি গেহলটের সঙ্গে পুরনো বিবাদ মেটাতে নারাজ। তাঁর বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যেই আন্দোলন করেছেন। সেই প্রতিবাদ তিনি জারি রাখতে পারেন।
২০২০ সালে পাইলটকে উপমুখ্যমন্ত্রী ও দলের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরানোর পর থেকেই বিদ্রোহী পাইলট। রাহুল গান্ধী তাঁকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শামাল দেন। কিন্তু এবার পাইলটের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এখন পাইলট কংগ্রেস ছাড়তে মুখিয়ে থাকায়, তাঁকে ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ।

পাইলট নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। তার উপর এই মুহূর্তে দেশে নেই রাহুল গান্ধী। শচীন পাইলটকে বুঝিয়ে ফেরাবেন কে? পাইলটের শর্ত পূরণ না হলে তিনি থাকবেন না কংগ্রেসে, এখন হাইকম্যান্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার। পাইলট কোনো পদ চান না, নৈতিকতার প্রশ্নেই পাইলট কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত অনড়।
এক অদ্ভুত সমস্যা এখন গ্রাস করেছে রাজস্থান কংগ্রেসে। কেন বিজেপি সরকারের আমলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত হবে না, কেন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত হবে না, এই প্রশ্নগুলি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরেছেন শচীন পাইলট। উল্লেখ্য, রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতির তদন্ত করছেন গেহলট সরকার।

এই অবস্থায় রাজস্থান-সহ দিল্লির রাজনীতিতে জোর চর্চা আগামী ১১ জুন সম্ভবত নিজের নতুন দলের ঘোষণা করতে চলেছেন শচীন পাইলট৷ যদিও এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন রাজস্থানের কংগ্রেস সভাপতি সুখবিন্দর সিং রণধাওয়া৷ রাজস্থানের দৌসায় শচীন পাইলটের বাবা প্রয়াত রাজেশ পাইলটের মৃত্যুবার্ষিকীর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে৷ এই অনুষ্ঠানের দিকেই নজন কংগ্রেসর-সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলের।
এখানে উল্লেখ্য, অশোক গেহলট ও শচীন পাইলটকে মুখোমুখি বসিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী গত ২৯ মে দুই নেতার মধ্যে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা সফল বলে দাবি করা হলেও, পরে তা ব্যর্থ প্রতিপন্ন হয়। রাজস্থানে ফিরেই দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তারপরই প্রশান্ত কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে শচীন পাইলট নতুন দল করতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়।












Click it and Unblock the Notifications