কর্নাটকে কোন অঙ্কে ভোট-জয়ের স্বপ্ন! ‘সুইং’ হওয়া আসনে নজর বিজেপি-কংগ্রেস উভয়েরই
রাত পোহালেই কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জিতবে কে, কীভাবে রণনীতি সাজিয়েছে কংগ্রেস ও বিজেপির মতো দলগুলি? ভোটের একেবারে মুখে এসে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্নাটকে ভোট-জয়ের জন্য বা স্বপক্ষে নির্বাচনী ফল নিয়ে যেতে ভোট 'সুইং' হওয়া আসনগুলিতেই নজর দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি।
কর্নাটকে এমন ৭৪টি নির্বাচনী কেন্দ্র ছিল, যেখানে গত নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজারেরও কম। এই আসনগুলিকেই 'সুইং' হওয়া আসন ধরে বিজেপি এবং কংগ্রেস বা অন্যান্য দলগুলি বিশেষ নজর দিয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই সামান্য ব্যবধানে জয়ের নিরিখে এগিয়েছিল কংগ্রেস।

১০ হাজারেরও কম ভোটে কংগ্রেস জয় পেয়েছে ৩৭টিতে। বিজেপি জিতেছে ২৭টি এবং এবং জেডিএস ১০টি আসনে। আরও ভাঙলে দেখা যাবে পাঁচটি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল ১০০০-এর নীচে। এই পাঁচটি আসন হল- মাস্কিতে মাত্র ২১৩ ভোটে, পাভাগাদায় মাত্র ৪০৯ ভোটে, হিরেকেরুরে মাত্র ৫৫৫ ভোটে, কুন্দগোলে মাত্র ৬৩৪ ভোটে এবং আলন্দে মাত্র ৬৯৭ ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল।
এছাড়া আরও ২৪টি আসন ছিল, যেগুলি পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জিতেছে বা হেরেছে কোনো দল। তার মধ্যে কংগ্রেস ১৮টি এমন আসন জিতেছে। ৫ হাজারেরও কম ভোটে জয়ী হওয়া ১৮টি আসন রয়েছে, ফলে কংগ্রেস এই নিরিখে বেশি দুর্বল। আবার চার মধ্যে চারটিতে ১০০০ ভোটেরও কম ব্যবধানে জয় পেয়েছে কংগ্রেস।
এবার এই কেন্দ্রগুলি কংগ্রেস বিশেষ নজর দিয়েছে। তারা মনে করছে এই কেন্দ্রগুলিতে কংগ্রেস জয়ের ব্যবধান আরও বাড়াতে সক্ষম হবে। কর্নাটক কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি সেলিম আহমেদ জোর দিয়েই বলেন, আমাদের দলের প্রার্থীরা এবার তাদের ব্যবধানে উন্নতি করবে।

তাঁর কথায়, "আমাদের সমস্ত বিধায়ক কম ব্যবধানে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে ভালো কাজ করেছেন। এবার তাদের মার্জিন বাড়বে।" সরকার কংগ্রেস-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত তহবিল না দিয়ে বৈষম্য করেছে বলে অভিযোগ তাঁর। এছাড়াও, বিজেপিও এই কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নজর দিয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিজেপি ১০৪টি আসন জিতেছিল। তার মধ্যে ৭৭টিতে গেরুয়া প্রার্থীরা ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। বিজেপির সবথেকে বড়ো জয়ের ব্যবধান ছিল বেলগাঁও দক্ষিণে। ৫৮,৬৯২ ভোটে জয়ী হয়েছিল বিজেপি।

কংগ্রেস ৭৯টি আসনের মধ্যে ৪২টিতে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছে। সবথেকে বড়ো ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন পুলকেশীনগরে অখণ্ড শ্রীনিবাসমূর্তি। তিনি জিতেছিলেন ৮১,৬২৬ ভোটে। এটা বিজেপির জন্যও সমস্যাজনক। বড়ো জয়গুলির ৩৬.২২ শতাংশ কংগ্রেসের পক্ষে।
বিজেপির ২০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে ৪০টি আসন রয়েছে, যা তাদের ভোটের ভাগ বাড়ায়। কিন্তু আসন ভাগ করে না। বিজেপির মুখপাত্র বিজয় প্রসাদ বলেন, তাদের দল সংকীর্ণ ব্যবধানে হেরেছে। আমরা আমাদের সাংগঠনিক দক্ষতা সেখানে রেখে সেই আসনগুলিতে বিশেষ যত্ন নিয়েছি। আমরা ৭২ জন নতুন মুখকে মাঠে নামিয়েছি, যা আমাদের মার্জিন বাড়াতে সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস।












Click it and Unblock the Notifications