দেরি করে আসার শাস্তি, ঠাঁয় দাঁড় করিয়ে রাখা থেকে খালি হাতে ফ্রিজ পরিষ্কার, বেঙ্গালুরুর হোটেল যেন নরক!
প্রতিটি হোটেলে অতিথিদের জন্য থাকে চেক ইন ও চেক আউটের সময়। একই রকম ভাবে, সেই হোটেলের ম্যানেজার থেকে সকল কর্মচারীদের জন্য ভাগ করা থাকে কাজের নির্দিষ্ট সময়। অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের মতো হোটেলে কর্মীদের চাপও নেহাত কম নয়। সঠিকভাবে অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রুম সার্ভিস কিংবা খাবার পরিবেশন, সারাদিন বিভিন্ন কাজের মধ্যে দিয়ে কর্ম ক্ষেত্রে কাটান হোটেল কর্মীরা। কিন্তু এক্ষেত্রে বিলাসবহুল হোটেলের ভেতরেই যেন ঠিক নরকের পরিবেশ!
সম্প্রতি সামনে এসেছে বেঙ্গালুরুর এক বিলাসবহুল হোটেলের কাজের পরিবেশ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই হোটেলের এক শেফ তথা পুষ্টি বিশেষজ্ঞ নয়নতারা মেনন বাগলা এক ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে নিজের নারকীয় অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন। বেঙ্গালুরুর ওই বিলাসবহুল হোটেলে প্রথমে কাজে যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে সরাসরি বলা হয়, 'জাহান্নামে স্বাগত!'

প্রথমে এই কথার মানে না বুঝতে পারলেও ধীরে ধীরে এর বাস্তব চিত্র বুঝতে পারেন নয়নতারা। নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা দেরিতে আসায় নানা রকমের নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হতো হোটেল কর্মীদের। হাত উপরে তুলে কার্যত ঠাঁয় দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। ঠান্ডা ফ্রিজ পরিষ্কার করতে হতো খালি হাতে! এখানেই শেষ নয়, মহিলাদের সঙ্গে নানা রকম ভাবে মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ। পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কোন কঠিন সময়ে থাকলেও জোর করে মেকআপ করতে বাধ্য করা হতো। এছাড়াও বডি শেমিংয়ের মতো জিনিসের সম্মুখীন হতে হয় মহিলা হোটেল কর্মীদের। এইসব তথ্য সামনে আসায় শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিশেষ করে থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিবাদী জুনিয়র চিকিৎসকরা। কর্মক্ষেত্রে ভয়ের পরিবেশ বন্ধ করতে হবে এটাই তাঁদের প্রাথমিক ও অন্যতম প্রধান দাবি। সেখানে শুধু বাংলায় নয় দেশের অন্যান্য প্রান্তেও কর্মীদের সঙ্গে এখানে আচরণ রীতিমতো উদ্বেগজনক বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications