CAA Timeline: দেশজুড়ে কার্যকর সিএএ, প্রতিবাদ-আন্দোলনের পথ পেরিয়ে কীভাবে এগিয়েছে প্রক্রিয়া?

CAA Timeline: লোকসভা নির্বাচনের আগে বড় চমক। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে আজ দেশজুড়ে কার্যকর হলো সিএএ।

সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের পর কেটে গিয়েছে ৪ বছর ৩ মাস। আজ বিজ্ঞপ্তি জারির মধ্যে কেন্দ্রের রাজনৈতিক চমক দেখছে কংগ্রেস।

CAA Timeline

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত মাসেই ঘোষণা করেছিলেন, লোকসভা ভোটের আগেই সিএএ লাগু হবে দেশজুড়ে। মতুয়া সম্প্রদায়-সহ অনেকেই তাকিয়ে ছিলেন সেদিকে। অবশেষে আজ বিকেলে বিজ্ঞপ্তি জারি হলো। কাল থেকেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

২০১৯ সালেই অমিত শাহ বলেছিলেন, শরণার্থীদের কোনও চিন্তা নেই। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে চিন্তা থাকবে অনুপ্রবেশকারীদের। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যাঁরা এ দেশে আসতে বাধ্য হয়েছেন সেই হিন্দু, শিখ, জৈন, পারসিক, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দিতেই এই আইন।

২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সম্মতিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে রূপান্তরিত হয়। আজ বিজ্ঞপ্তি জারির পর তা কার্যকর হলো। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল অবধি পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের নানা প্রান্তে সিএএ-র বিরুদ্ধে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।

১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী আনার লক্ষ্যে এই বিল সংসদে প্রথমে পেশ হয়। বিরোধিতার ঝড় সামলে তা পাস হওয়ার পর পাঠানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতির কাছে। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর দিল্লির শাহীন বাগে সিএএ রুখতে অনির্দিষ্টকালের ধরনা শুরু করেন মহিলারা।

সেদিনই পাল্টা মিছিল বেরিয়েছিল বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রর নেতৃত্বে। যা থেকে আওয়াজ ওঠে গোলি মারো শালো কো, দেশ কে গদ্দারো কো। এই নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার সামনে সিএএ-র প্রতিবাদকারীদের দিকে একজন গুলি ছুড়লে এক ছাত্র আহত হন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি সিএএ-র বিরোধিতায় ছাত্র বিক্ষোভের আঁচ বাড়তে থাকে। দেশের নানা প্রান্তে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সিএএ-র প্রতিবাদীরা। ২৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে হিংসার ঘটনা ঘটে। ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন কয়েকশো। অনেকে ঘরছাড়া হন। বেশিরভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

দিল্লিতে নির্বাচনের আগে সিএএ-এনআরসির প্রতিবাদকারীদের দেশবিরোধী তকমা সেঁটে দেন বিজেপির নেতারা। ধরনাস্থল খালি করার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র যে বক্তব্য রেখেছিলেন তা প্ররোচনামূলক ছিল বলে অভিযোগ। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ফের হিংসার ঘটনা ঘটে। যাতে পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লালের মৃত্যু হয়।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর আদালতে পিটিশন দাখিল হয় সিএএ-র সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে সিএএ বিরোধিতার আন্দোলনে ভাঁটা পড়ে। থমকে যায় আলোচনার প্রক্রিয়া। গত বছরের শেষ থেকেই ফের সিএএ নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন বলে তোপ দাগেন অমিত শাহ। সিএএ রোখা যাবে না বলেও জোর গলায় দাবি করেন। গত জানুয়ারিতে জানা যায়, সিএএ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। লোকসভা নির্বাচনের আগেই তা লাগু করা হবে।

গত ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর একটি জনসভায় ঘোষণা করেন সাতদিনের মধ্যে সিএএ দেশজুড়ে কার্যকর হবে। যদিও সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর শান্তনুকে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিরোধীরাও।

অবশেষে আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, দেশজুড়ে সিএএ কার্যকর করার কথা। অনলাইনে কাল থেকে আবেদন করা যাবে নাগরিকত্বের জন্য। দ্রুত যাতে নাগরিকত্ব মেলে সেই বন্দোবস্তের লক্ষ্যেই এই Citizenship (Amendment) Rules, 2024। মোদী সরকারের গ্যারান্টির কথা মনে করিয়ে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, নিশীথ প্রামাণিকরা।

শুভেন্দু লিখেছেন, "১৯৪৫ সাল থেকে ধর্মীয় কারণে উৎপীড়িত জনগোষ্ঠী; মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রত্যেক ব্যক্তি সমনাগরিকত্বের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। আজ অপেক্ষার অবসান হল। নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের (‌CAA) নোটিফিকেশন জারির মাধ্যমে এই আইন কার্যকর হবে গোটা দেশে। আজ এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে স্মরণ করি এবং পূর্ণব্রহ্ম পূর্ণাবতার শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শিবাবতার শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের শ্রীচরণে প্রণাম নিবেদন করি।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+