লোকসভা আসন ৮৫০ করার প্রস্তাব কেন্দ্রের, ২০২৯ থেকে কার্যকর!
কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব করেছে। এই পরিবর্তনের রূপরেখা দেওয়া খসড়া বিলটি সাংসদদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা কার্যকর হলে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত নারী সংরক্ষণ আইন প্রণয়নের পথ প্রশস্ত করবে।
সরকার সংসদের তিন দিনের এক বিশেষ অধিবেশনে সাংবিধানিক সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা কার্যকর করা এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ। প্রস্তাবিত ৮৫০টি আসনের মধ্যে ৮১৫টি রাজ্যগুলির জন্য ও ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য থাকবে, যা ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে।

সরকারের আসন পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বিরোধী দলগুলি, বিশেষত ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি। আম আদমি পার্টি (আপ), আরজেডি এবং ডিএমকে-এর মতো দলগুলি যুক্তি দিচ্ছে যে, এই প্রক্রিয়াটি আপডেট হওয়া ২০২১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
ইন্ডিয়া জোটের কয়েকটি দল অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের জন্য "কোটার মধ্যে কোটা"র দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্টীকরণ চাইতে পারে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লিতে অবস্থিত বাসভবনে আপ-সহ বিরোধী নেতাদের এক কৌশলগত বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনী নারী সংরক্ষণের চেয়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণে বেশি মনোযোগী। তিনি প্রশ্ন করেন, "সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি ১৬ এপ্রিল পেশ হওয়ার কথা। বিলের কপি কোথায়?" তিনি ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিশেষ অধিবেশনের সময় নিয়েও আপত্তি জানান।
সাংবিধানিক সংশোধনী পাসে বিজেপির বিরোধী দলের সমর্থন প্রয়োজন, কারণ এর জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আবশ্যক। বিরোধী জোট তাদের দাবি উত্থাপন এবং সরকারের কাছ থেকে আরও স্পষ্টতা চাওয়ার জন্য এই শর্তকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।












Click it and Unblock the Notifications