ঠিক কবে থেকে লাগু হতে পারে CAA? কী বলছে কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র
সারা দেশে শীঘ্রই লাগু হতে চলেছে সিএএ অর্থাৎ সংশোধিত নাগরিকত্ব বিধি। সূত্রের খবর, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর করার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ২০১৯-এর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-এর নিয়মগুলি নিয়ে জানাতে পারে। সরকারের দাবি সিএএ লাগু হলে তা পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা সেখানকার নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের আবেদনের প্রক্রিয়াকরণ নিষ্চিত করবে।
প্রসঙ্গত এমাসের শুরুতে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, সিএএ নিয়মগুলি লোকসভা নির্বাচনের আগে কার্যকর করা হবে। তিনি সেই সময় বলেছিলেন, আমাদের মুসলিম ভাইদের সিএএ-র বিরুদ্ধে প্ররোচিত করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, সিএএ শুধুমাত্র পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে নিপীড়নের মুখোমুখি হয়ে ভারতে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে। এর মাধ্যমে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

গত মাসে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সরকারি সূত্রের উল্লেখ করে বলেছিল, সিএএ-র নিয়মগুলি নির্বাচন ঘোষণার অনেক আগে কার্যকর করা হবে। প্রসঙ্গত ২০১৯-এর ডিসেম্বরে আইনের জন্য বিলটি সংসদে অনুমোদন পায়। সেই সময় এক শীর্ষ আধিকারিকের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছিল, শীঘ্রই সিএএ-র নিয়ম লাগু করা হবে। একবার নিয়ম জারি হয়ে গেলে, আইনটি কার্যকর করা যেতে পারে এবং যাঁরা যোগ্য তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া যেতে পারে।
ওই আধিকারিকের উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, নিয়মগুলি তৈরি, এছাড়া অনলাইন পোর্টালও রয়েছে। এখানে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে করা হবে। সেখানে আবেদনকারীদের ঘোষণা করতে হবে, তারা নির্দিষ্ট কোনও বছরে ভ্রমণের নথি ছাড়াই ভারতে এসেছিলেন। এক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনও নথি চাওয়া হবে না।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, সিএএ কংগ্রেস সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল। যখন দেশ ভাগ হয়েছিল, সেইসব দেশের সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়েছিল। কংগ্রেস সেই সময় শরণার্থীদের আশ্বাস দিয়েছিল, শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু তারা এখন সেখান থেকে পিছু হটেছে। তিনি আরও বলেছিলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আগে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি সাংবিধানিক অ্যাজেন্ডা ছিল। কিন্তু পরে কংগ্রেস তাদের তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে সেটিকে উপেক্ষা করে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, ২০১৯-এ সংসদের উভয়কক্ষে সিএএ পাশ করানো হয়। এরপর ২০২০-র জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেন। কিন্তু কেন্দ্র এখনও এর নিয়ম নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। সিএএ-তে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত সেখানকার সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানরা যাঁরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন, তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।












Click it and Unblock the Notifications