চিনের মোকাবিলায় ডোকালামে পৌঁছনোর বিকল্প পথ তৈরি করল ভারতীয় সেনা
ডোকালাম নিয়ে চিনের সঙ্গে ভারতের বিবাদ নতুন কোনও ঘটনা নয়। বছর কয়েক আগে পর্যন্ত দুই দেশের সেনার মধ্যে ডোকালামে পাথর ছোড়াছু়ড়ি পর্যন্ত হয়েছে।
ডোকালাম নিয়ে চিনের সঙ্গে ভারতের বিবাদ নতুন কোনও ঘটনা নয়। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে পর্যন্ত দুই দেশের সেনার মধ্যে ডোকালামে পাথর ছোড়াছু়ড়ি পর্যন্ত হয়েছে। চিন বারবারই ডোকালামের সীমানা অতিক্রমের চেষ্টা চালিয়েছে। তার পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। শেষ পর্যন্ত বিবাদ কিছুটা ঝিমিয়ে থাকলেও নতুন করে যে জেগে উঠবে না তা সুনিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই প্রস্তুতিটা আগে থাকতেই নিয়ে রাখল ভারতীয় সেনা। ডোকালামে যাতে সহজেই পৌঁছনো যায় তার জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করেছে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন বা বিআরও।

ডোকালামে বিকল্প পথ
ডোকালাম সীমান্তে পৌঁছনোর বিকল্প পথ তৈরি হল। বিআরও-র উদ্যোগে এই পথ তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন ডোকালামে পৌঁছনোর এই বিকল্প পথ অনেকটা উপকার করবে তাঁদের। সহজেই সেই রাস্তা ব্যবহার করে বাড়তি বাহিনী পৌঁছনো যাবে। এই রাস্তা তৈরি নিয়েই চিনের সঙ্গে বিবাদ কিন্তু চরমে উঠেছিল। প্রায় ৭৩ দিন পর্যন্ত বিবাদ চলেছিল চিনের সঙ্গে।

ডোকালাম সংকট
২০১৭ সালের ১৬ জুন ডোকালামে চিনের সঙ্গে বিবাদ চরমে ওঠে। ভারত, ভুটান ও চিন তিনটে দেশেরই সীমান্ত রয়েছে ডোকালামে। চিন দাবি করতে শুরু করে ভারতের ভুটানের অংশটিও তাদের। তাতে আপত্তি জানায় ভারতীয় বাহিনী। এই নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। চিনা বাহিনী ডোকালামে ভারতীয় সীমান্তের অনেকটাই কাছে চলে আসে। অশনি সংকেত বুঝে ভারতীয় বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৭৩ দিন ধরে এই টানা পোড়েনে পর মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছিল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তিনি বেজিং সফরে গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

মোট ১১টি রাস্তা তৈরি করছে বিআরও
ভারত চিন সীমান্তে মোট ১১টি রাস্তা তৈরি করছে বিআরও। এছাড়াও আরও ৯টি রাস্তা নভেম্বরের মধ্যে তৈরি করা হয়ে যাবে বলে সূত্রের খবর। ৬টি রাস্তার মধ্যে তিনটি পশ্চিম দিকে এবং তিনটি পূর্ব দিকে হচ্ছে। প্রায় ৫৮ কিলোমিটারের এই পথ তৈরি হয়ে গেলে আর কোনও সমস্যাই থাকবে না বািহনীর এমনই জানিয়েছেন বিআরও-র ডিরেক্টর জেনারেল হরপাল সিং। লাদাখ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হয়ে যাওয়ার পর সেখানেও বাহিনীর তৎপরতা বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি। অরুণাচল প্রদেশেও চিন সীমান্তে পৌঁছনোর জন্য ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিকল্প রাস্তা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে লে-তে ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা তৈরি করছে বিআরও। সেটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে চিনের সীমান্তে বাহিনীর পথ সুগম করতে কোনও কসুর করা হবে না বলে বিআরও-র তরফে জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications