অগ্নিকাণ্ডের মাঝেই থাইল্যান্ডে যাওয়ার টিকিট, মালিকরা কি অপরাধ ঢাকতেই পালানোর চেষ্টা করলেন? জানুন
গোয়ার আরপোড়ার বার্চ বাই রোমিও লেন নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যখন দমকলকর্মীরা জীবন বাজি রেখে আগুন নেভাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই নাকি ক্লাবের মালিক সৌরভ ও গৌরব লুথরা বিমানে চেপে দেশ ছাড়ার ছক কষছিলেন! এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল গোয়া পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৭ ডিসেম্বর রাত ১টা ১৭ মিনিট আগুন লাগার পরপরই মেক মাই ট্রিপ প্ল্যাটফর্মে থাইল্যান্ডগামী টিকিট বুক করেন লুথরা ভাইরা। তখন বাইরে ধোঁয়া, আগুন আর সাহায্যের আর্তি, ভেতরে পালানোর প্রস্তুতি!

গোয়া পুলিশের এক্স হ্যাণ্ডেলে পোস্টে লেখা হয়েছে "দমকল বাহিনী যখন আগুন নেভাতে ও আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে লড়াই করছিল, তখন অভিযুক্তরা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।"
এর কিছু ঘণ্টা পরই, ভোর সাড়ে পাঁচটায়, ইন্ডিগো বিমানে চেপে তারা পাড়ি দেন ফুকেটে।
এদিকে, মঙ্গলবার ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে জারি করেছে ব্লু কর্নার নোটিস যা আন্তর্জাতিকভাবে তথ্য আদান প্রদানের জন্য ব্যবহৃত একটি সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে, লুথরা ভাইদের পাসপোর্ট বাতিলের আবেদনের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকও নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রোহিণী আদালতে আত্মসমর্পণ এড়াতে চার সপ্তাহের অগ্রিম জামিন চেয়েছিলেন লুথরা ভাইরা। দাবি করেন, "আমরাও তো ভুক্তভোগী।"
কিন্তু বিচারক কোনও রকম অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করেন। দিল্লি পুলিশকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়ে শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক হয় শুক্রবার।
গোয়ার সবচেয়ে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ছবি শনিবার রাতের সেই আগুন কেড়ে নিয়েছে অন্তত ২৫টি প্রাণ, আহত হয়েছেন আরও ছয় জন। উইকেন্ড হওয়ার কারণে ক্লাব ছিল কানায় কানায় ভরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পাম পাতায় তৈরি অস্থায়ী কাঠামোতে চোখের পলকে আগুন ধরে যায়।
সমস্যা আরও বাড়িয়েছিল ক্লাবের অবস্থান নিয়ে, আরপোড়া নদীর ব্যাকওয়াটারে সরু গলি, সংকীর্ণ প্রবেশপথ। দমকলের বড় গাড়ি ঢুকতেই পারেনি। বাধ্য হয়ে ট্যাঙ্কারকে ৪০০ মিটার দূরে রেখে পাইপ টেনে কাজ করতে হয়েছে।
২৫টি প্রাণহানির দায় কার? কেন কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না? ক্লাব মালিকদের পালানোর চেষ্টা কি তাদের দোষ আরও প্রকট করে তুলছে? এসব প্রশ্নে উত্তাল গোয়া। অগ্নিকাণ্ডের ধাক্কা সামলে এখন গোটা দেশ তাকিয়ে আছে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।












Click it and Unblock the Notifications