বিধানসভা ভোটের আগে জোর ধাক্কা কংগ্রেসের, বিজেপির জয়জয়কার রাজস্থানের ভোটে
২০২৪-এর আগে ২০২৩ সাল কার্যত সেমিফাইনালের যুদ্ধের বছর। বিভিন্ন রাজ্য বিধানসভার ভোট। ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্য ভোট হয়ে গিয়েছে। এ বছর প্রথম বড় রাজ্যের ভোট হচ্ছে কর্নাটকে। আর ৬ রাজ্যের মধ্যে ভোট হবে রাজস্থানে। তার আগে রাজস্থান পুরনিগনের উপনির্বাচনের ধাক্কা খেল কংগ্রেস।
রাজস্থানে গতবার কংগ্রেস সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বিজেপিকে হারিয়ে। এবার নির্বাচনের ঠিক আগে উপনির্বাচনে বিজেপির পক্ষে রাজস্থানের একাংশ রায়দান করলেন। এই নির্বাচন ফল নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

রাজ্যের ১২টি জেলায় উপনির্বাচন হয়। ১২টি জেলার মোট ১৪টি আসনের ফল প্রকাশ হয় সোমবার। তার মধ্যে ৮টিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। চারটি গিয়েছে কংগ্রেসের দখলে। আর বাকি দুটিতে জয়ী হয়েছে নির্দল। এই ফলে স্বভাবতই খুশি গেরুয়া শিবির। রাজ্যের শাসক কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়েছে তারা।
রাজস্থানে কংগ্রেসের তুলনায় পুরনিগমের ভোটে বেশি আসনে জিতে অক্সিজেন পেল বিজেপি। রাজস্থান বিজেপির সভাপতি সিপি জোশী বলেন, কংগ্রেস সরকারের পতন হতে চলছে, আজ মানুষই তা ঘোষণা করে দিল। এদিন ভোটের ফলে তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল।
রাজস্থান কংগ্রেসে এখন সংকট তৈরি হয়েছে। চরম অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগছে কংগ্রেস শিবির। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শচীন পাইলটের। সরকরা পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে রাজস্থানে। এমনই সংকট তৈরি হয়েছিল রাজস্থানেও সরকার পড়ে যাওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছিল।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে কোনোমতে সামাল দেওয়া গিয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। আগামী নির্বাচনের আগে রাজস্থানে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখ পড়ে গেল কংগ্রেস। রাজস্থানে এমনিতেই একবার কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে তো পরেরবার বিজেপি। পালাবদলের রীতি ও রেওয়াজ রয়েছে রাজস্থানে।
সেই নিরিখে এবার কংগ্রেসের কাছে চ্যালেঞ্জ ক্ষমতা ধরে রাখা। তার আগে কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলেইছে। এই পরিস্থিতিতে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। সম্প্রতি বসুন্ধরা রাজের কেন্দ্রে গিয়ে তিনি বলেন, রাজস্থানে নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিজেপি।

বিজেপির অমিত শাহ, গজেন্দ্র শেখাওয়াত ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে পরিকল্পনা করে কংগ্রেস নেতাদের উসকানি দেওয়া হয়েছে। তবে বিজেপির সেই চক্রান্তে সাহায্য করেননি বসুন্ধরা রাজে। সেইজন্য ২০২০ সালে কংগ্রেস সরকার পড়ে যায়নি। আজও তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার রয়েছে।
অশোক গেহলটের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তোপ দাগেন বসুন্ধরা রাজে ও গজেন্দ্র শেখাওয়াত। কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটও একহাত নেন অশোক গেহলটকে। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী নন, বসুন্ধরা রাজেই তাহলে অশোক গেহলটের নেত্রী।












Click it and Unblock the Notifications