'ভারতকে বদনাম করা তাঁর পুরোনো অভ্যাস'! বার্লিনে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল BJP
বার্লিনে গিয়ে ভারতের গণতন্ত্র এবং সংবিধান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল বিজেপি। বিদেশের মাটিতে দেশকে বদনাম করার অভিযোগ তুলে এবার রাহুলকে আক্রমণ করল শাসক দল।

জার্মানির বার্লিনে হেরটি স্কুলে (Hertie School in Berlin) ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, বিজেপি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান গুলিকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করছে। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপর বিজেপি সরাসরি আক্রমণ করছে। তাঁর কথায়, "দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর একরকমভাবে দখলদারি চলছে। আর সেই দখলদারি করেই গোটা ব্যবস্থাটাকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।" তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান যে সমান অধিকার, ভাষা এবং ধর্মের মর্যাদা দেয়, বিজেপি সেই ভাবনাকেই শেষ করে দিতে চাইছে। ভারতীয় গণতন্ত্র শুধু দেশের সম্পদ নয়, গোটা বিশ্বের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারতে গণতন্ত্রের উপর আঘাত করা মানেই বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের উপর আঘাত করা।
তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন যে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সিবিআই এখন আর স্বাধীনভাবে কাজ করছে না। এই সংস্থাগুলিকে বিরোধীদের দমনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
তিনি বলেন যে, "ED এবং CBI-র হাতে বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও মামলাই নেই। অথচ বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা চলছে। কীভাবে? যারা বিজেপির বিরোধিতা করে, তাদেরকেই টার্গেট করা হচ্ছে।"
এমনকি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন রাহুল। তাঁর কথায়, "কোনও ব্যবসায়ী কংগ্রেসকে সমর্থন করলে, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। এর থেকেই স্পষ্ট যে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলি আর তাদের আসল ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
রাহুলের এই বক্তব্যের এবার কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন যে, বিদেশে গিয়ে ভারতকে বদনাম করা রাহুল গান্ধীর পুরনো একটা অভ্যাস। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, রাহুল এখন আর 'লিডার অফ অপোজিশন' নন, বরং তিনি এখন 'লিডার অফ প্রোপাগান্ডা'। তিনি আরও দাবি করেন যে, বিদেশে গিয়ে ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে কথা বলে মিথ্যা প্রচার করাই তাঁর কাজ।
এদিকে রাহুল গান্ধী বলেন যে, বিজেপি এবং আরএসএসের আদর্শের সঙ্গে দেশের অনেক মানুষের ভাবনার মিল পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, ভারত এক জনের ইচ্ছায় নয়, রাজ্যগুলির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চলা উচিত। ইন্ডিয়া জোট নিয়েও তিনি জানান যে , রাজ্যস্তরে আলাদা আলাদা লড়াই থাকলেও আরএসএসের আদর্শের বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দল একজোট।
সব মিলিয়ে, রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফরের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications