সেনা ও আমলাতন্ত্রে সমাজের উপরতলার নিয়ন্ত্রণ! বিহারে ভোটপ্রচারে বিতর্কিত মন্তব্য রাহুল গান্ধীর
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর অভিযোগ যে, ভারতের কর্পোরেট, আমলাতন্ত্র এবং এমনকী সেনাবাহিনীতেও তথাকথিত উচ্চবর্ণের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ৬ নভেম্বরের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষদিনে বিহারের কুটুম্বায় এক জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাহুল দাবি করেছেন, দলিত, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি এবং সংখ্যালঘুরা, যারা ভারতের জনসংখ্যার ৯০%, তারা প্রভাবশালী পদ থেকে মূলত অনুপস্থিত। তাঁর এই মন্তব্যের পর বিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কুটুম্বায় একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে গান্ধী ভারতের বৃহত্তম কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠানের সামাজিক গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই নির্বাচনী এলাকাটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত, যেখানে বিহার কংগ্রেসের প্রধান রাজেশ রাম মহাজোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিন রাহুল বলেন, "দেশের ৫০০টি বড় কোম্পানির তালিকা বের করে দেখুন, সেখানে দলিত, অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, মহাদলিত, সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের খুঁজুন। আপনি কাউকে খুঁজে পাবেন না। একটিও খুঁজে পাবেন না। মাথায় থাকা সবাই ১০% জনসংখ্যা থেকে আসে।"
এখানেই না থেমে রাহুল বলেন, "সমস্ত ব্যাঙ্কের সম্পদ তাদের কাছে যায়। সমস্ত চাকরি তাদের কাছে যায়। তারা আমলাতন্ত্রে জায়গা পান। বিচারব্যবস্থার দিকে তাকান। সেখানেও তারা সবকিছু পান। সেনাবাহিনীর উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আর ৯০% জনসংখ্যাকে আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না।"
যদিও সেনাবাহিনী জাতি-ভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করে না, তবে উচ্চ বিচারব্যবস্থায় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে সীমিত তথ্য বিদ্যমান।
রাহুলের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি কড়া আক্রমণ শানিয়েছে। রাহুল গান্ধী দেশব্যাপী জাতিগত আদমশুমারির দাবি ফের তুলেছেন। এটিকে সমান প্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করেছেন। তবে, সেনাবাহিনী সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রসঙ্গত রাহুল গান্ধী জাতিগত আদমশুমারিকে তাঁর রাজনৈতিক প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বানিয়েছেন। বিশেষ করে বিহারে, যেখানে কংগ্রেসের সহযোগী আরজেডি পিছিয়ে পড়া শ্রেণি এবং মুসলিমদের সমর্থন পায়। ভারত ১৯৩১ সাল থেকে দেশব্যাপী জাতিগত তথ্য প্রকাশ করেনি। যদিও বিহারে ২০২৩ সালে একটি জাতিগত সমীক্ষা করা হয়েছিল, যেখানে দেখা গিয়েছে যে অসংরক্ষিত বা উচ্চবর্ণের জনসংখ্যা মাত্র ১৫%-এর কিছু বেশি।












Click it and Unblock the Notifications