বিহার বিধানসভা ভোটে স্বচ্ছতা আনতে নতুন ১৭টি সংস্কার কমিশনের, পরে দেশব্যাপী লাগু হবে
বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ করতে নির্বাচন কমিশন নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বুথ-স্তরের আধিকারিকদের জন্য পরিচয়পত্র, ভোটকেন্দ্রের বাইরে মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ ওয়েবকাস্টিংয়ের মতো পদক্ষেপ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সাধু এবং বিবেক জোশীর উপস্থিতিতে দিল্লিতে আয়োজিত এক বৈঠকে এদিন রবিবার এই ১৭টি নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই পদক্ষেপগুলি শুধু বিহারের নির্বাচন প্রক্রিয়াই উন্নত করবে না, ভবিষ্যতে সারা দেশে এগুলি মডেল হিসেবেও কাজ করবে।

জ্ঞানেশ কুমার বলেন, "১৭টি নতুন উদ্যোগ বিহারে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু নির্বাচন পরিচালনা এবং কিছু ভোট গণনার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।"
বিহার সফর শেষে পাটনায় এক সংবাদ সম্মেলনে কুমার জানান, নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, ভোটার নিবন্ধনের ১৫ দিনের মধ্যে ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্র (EPIC) প্রদান নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও, ভোট প্রক্রিয়া সহজ করতে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন জমা রাখার সুবিধা থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে বিহার এখন দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১২০০-র কম ভোটার থাকবেন। এর আগে প্রতিটি বুথে ১৫০০ ভোটার পর্যন্ত রাখার অনুমতি ছিল।
নির্বাচনী তালিকার এসআইআর-এর অংশ হিসেবে, প্রতিটি বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-তে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে ১২ হাজার ৮১৭টি নতুন ভোটকেন্দ্র যুক্ত হয়েছে এবং মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৯৫ থেকে বেড়ে ৯০ হাজার ৭১২ হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও জানান যে, নির্বাচনী রাজ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এ প্রার্থীদের বড় ফন্ট ও রঙিন ছবি ব্যবহার করা হবে। আগে যেখানে কালো-সাদা ছবি ব্যবহার করা হতো, যা অনেক সময় প্রার্থী শনাক্তকরণে সমস্যা সৃষ্টি করত।
তিনি বলেন, "ইভিএমে ব্যালট পেপার ঢোকানো হলে কালো-সাদা ছবি থাকায় প্রার্থীকে চিহ্নিত করতে অসুবিধা হয়, যদিও নির্বাচনী প্রতীক দেখা যায়। সিরিয়াল নম্বর বড় করারও প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাই, বিহার নির্বাচন থেকে শুরু করে সারা দেশে সিরিয়াল নম্বরের ফন্ট বড় হবে এবং প্রার্থীর ছবি রঙিন হবে।"
জ্ঞানেশ কুমার জানান, বুথ-স্তরের আধিকারিকদের সহজে চেনার জন্য তাদের সরকারি পরিচয়পত্র থাকবে। তিনি বলেন, "ভোটারদের কাছে গেলে তাদের ভালোভাবে চিহ্নিত করতে বুথ-স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছে।"
কুমার আরও বলেন, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে মোবাইল ফোন জমা রাখতে হবে। তিনি জানান, "বুথের বাইরে একটি কক্ষে মোবাইল ফোন জমা রাখা যাবে। এই প্রক্রিয়া বিহার জুড়ে কার্যকর করা হবে।"
নির্বাচন কমিশনার ঘোষণা করেন যে, নির্বাচনের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিহারের সব ভোটকেন্দ্রে সম্পূর্ণ ওয়েবকাস্টিং করা হবে। তিনি বলেন, "প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং থাকবে।"
জ্ঞানেশ কুমার ব্যাখ্যা করেন, আগে ফর্ম ১৭সি এবং ইভিএম গণনা ইউনিটের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট সব ভিভিপ্যাটের সম্পূর্ণ পুনঃগণনা করা হতো।
তিনি বলেন, "আগে যখন ভোট গণনা করা হতো, প্রিসাইডিং অফিসার পোলিং এজেন্টদের যে ফর্ম ১৭সি দিতেন তাতে এবং ইভিএম গণনা ইউনিটে গরমিল থাকলে সমস্ত ভিভিপ্যাট সম্পূর্ণ গণনা করা হতো। একইভাবে, ইভিএম গণনার শেষ দুই রাউন্ডের আগে পোস্টাল ব্যালট গণনা করা বাধ্যতামূলক হবে।"
কুমার আরও ঘোষণা করেন যে, বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২২ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ভোটার তালিকার SIR-এর কাজ সময়সীমার মধ্যে শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, "বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে – যার মধ্যে ২টি তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং ৩৮টি তফসিলি জাতি (এসসি)-এর জন্য সংরক্ষিত। বিহার বিধানসভার মেয়াদ ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর শেষ হচ্ছে এবং তার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো বুথ-স্তরের আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসআইআর ২০২৫ সালের ২৪ জুন শুরু হয়েছিল এবং সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications