ভারতের প্রথম জিরো কমিশন ও সার্জ ফ্রি রাইড হেলিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আজ যাত্রা শুরু করল ভারত ট্যাক্সি
নতুন মোড়কে দেশের রাইড হেলিং বাজারে আত্মপ্রকাশ করল 'ভারত ট্যাক্সি'। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করলেন দেশের প্রথম জিরো কমিশন ও সার্জ ফ্রি সমবায়ভিত্তিক ট্যাক্সি পরিষেবার। দু'মাসের সফল পাইলট প্রকল্পের পরেই জাতীয় স্তরে যাত্রা শুরু করল এই দেশীয় প্ল্যাটফর্ম।
মাল্টি স্টেট কো অপারেটিভ সোসাইটিজ অ্যাক্ট, ২০০২ অনুযায়ী নথিভুক্ত ও ২০২৫ সালের ৬ জুন প্রতিষ্ঠিত ভারত ট্যাক্সির মূল দর্শন একেবারেই আলাদা, এখানে কোনও কমিশন নেই, ভাড়ায় হঠাৎ বাড়তি চাপ নেই। লাভের পুরো অংশ সরাসরি পৌঁছবে চালকদের হাতে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগে গড়া প্রচলিত রাইড হেলিং সংস্থাগুলির তুলনায় এটি একেবারে দেশীয় ও চালক কেন্দ্রিক বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

আটটি শীর্ষ সমবায় সংস্থার সহযোগিতায় গত ২ ডিসেম্বর দিল্লি এনসিআর ও গুজরাটে পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন ৩ লক্ষের বেশি চালক, নথিভুক্ত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লক্ষ, আর প্রতিদিন সম্পন্ন হচ্ছে ১০ হাজারেরও বেশি যাত্রা। ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ কোটি টাকা সরাসরি চালকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি মন্ত্রকের।
ভারত ট্যাক্সিতে চালকদের বলা হচ্ছে 'সারথি'। তাঁদের সামাজিক সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য বিমা, দুর্ঘটনা বিমা, অবসর কালীন সঞ্চয় ও আলাদা সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে। দিল্লির সাতটি জায়গায় ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে সাপোর্ট সেন্টার।
পাশাপাশি জরুরি সহায়তা, যাচাইকৃত রাইড ডেটা ও অন্য প্ল্যাটফর্মে কাজ করার স্বাধীনতাও থাকছে, কোনও একচেটিয়া শর্ত ছাড়াই।
নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে 'বাইক দিদি' উদ্যোগ। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ১৫০ এর বেশি মহিলা চালক যুক্ত হয়েছেন, যা সমবায় মডেলে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহণের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১,২০০ এরও বেশি সারথির উপস্থিতি নজর কাড়বে। সেরা ছয়জন পারফর্মিং সারথিকে সম্মান জানানো হবে, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে শেয়ার সার্টিফিকেট 'সারথিই মালিক' ভাবনাকে আরও দৃঢ় করতে। প্রত্যেক সম্মানিত সারথি পাবেন ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা ও পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা।
এদিন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে মোট ন'টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে, যার লক্ষ্য ডিজিটাল ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান আরও শক্তিশালী করা।
আগামী দু'বছরের মধ্যে দেশের সব রাজ্য ও শহরে পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতিটি রাজ্যে সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তোলা ও জাতীয় ডিজিটাল পরিকাঠামোর সঙ্গে গভীর সংযোগের মাধ্যমে এক টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমবায়ভিত্তিক মোবিলিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এখন ভারত ট্যাক্সির লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications