ঘিতে মেশানো বাথরুম পরিষ্কারের রাসায়নিক! তিরুপতি লাড্ডু তৈরি নিয়ে শুরু বিতর্ক, কী দাবি চন্দ্রবাবু নাইডুর?
তিরুপতির লর্ড ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দির (Lord Venkateswara Swamy Temple)-এর লাড্ডু প্রসাদাম ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু (Chandrababu Naidu) শুক্রবার সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন যে, লাড্ডু তৈরির জন্য যে ঘি ব্যবহার হয় সেটিতে নাকি বাথরুম পরিষ্কারের কেমিক্যাল মেশানো হয়েছিল। কুরনুলে এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন যে শুধু তিরুপতিই নয়, শ্রীশৈলম মন্দির (Srisailam Temple)-এও ঠিক একই ধরনের ভেজাল হয়ে থাকতে পারে।

তিনি আগেও একবার মন্তব্য করেছিলেন যে, লাড্ডুর জন্য যে ঘি ব্যবহৃত হয় তাতে নাকি গরুর চর্বি এবং লার্ড মেশানো হয়েছে। কিন্তু নাইডুর এইরকম দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে আক্রমণ চালায় ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)।
প্রসঙ্গত, সিবিআইয়ের চার্জশিটে বলা হয়েছে যে, ঘি-এর মধ্যে গরুর চর্বি অথবা লার্ডের ব্যবহারের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, উদ্ভিজ্জ তেল এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে ঘি ভেজাল করা হয়েছিল।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে যে, যখন ওয়াইএসআর কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল এবং ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সেই সময়েই এই ভেজালের ঘটনা ঘটেছে অর্থাৎ ২০১৯-২০২৪ সালের মধ্যে।
এদিকে তেলুগু দেশম পার্টি (TDP) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, চার্জশিটে উঠে আসা তথ্য ভক্তদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ এবং উদ্বেগ তৈরি করেছে। দলের বক্তব্য অনুসারে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন, নাম মনীশ গুপ্ত, ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে ভুয়ো নামে একাধিক ইনভয়েস তৈরি করেছিলেন।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে যে, এই সময়ে অ্যারিস্টো কেমিক্যালস (Aristo Chemicals) নামের এক সংস্থা দুটি দুগ্ধজাত সংস্থাকে প্রায় ৮,৯০০ কেজি ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং LABSA (Acid Slurry) সরবরাহ করেছিল। TDP-র দাবি যে, LABSA একটি নন-ফুড গ্রেড, অত্যন্ত ক্ষতিকর শিল্পজাত রাসায়নিক, যা খাওয়া হলে মারাত্মক ভাবে শারীরিক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
অন্যদিকে আবার, এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস। দলের প্রধান জগন মোহন রেড্ডির বক্তব্য যে, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য তেলুগু দেশম পার্টি এবং মুখ্যমন্ত্রী নাইডু ইচ্ছাকৃতভাবেই ধর্মীয় আবেগে উসকানি দিচ্ছেন। তিনি জানান যে, এই বিষয়ে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হবে তাঁর দল।
রেড্ডি আরও বলেন যে, আদালতের তত্ত্বাবধানে হওয়া সিবিআই তদন্তে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, লাড্ডুর ঘিয়েতে কোনওরকম পশুজাত চর্বি ছিল না। দুটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারের রিপোর্টও সেই একই কথাই বলছে। তাঁর দাবি, চার্জশিটে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের কোনও নেতার নামই নেই। নাইডু যে এক সদস্যের কমিশন গঠন করেছেন, তা শুধুই লোক দেখানো। আইনি পরীক্ষায় তা টিকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিরুপতি লাড্ডু বিতর্ক এখন আর শুধু ভেজালের অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধর্ম, রাজনীতি এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব, এই তিনের টানাপোড়েনে বিষয়টি অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনীতিতে বড়সড় ঝড় তুলেছে।












Click it and Unblock the Notifications