Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বাংলাদেশ অস্থির, চিকেন'স নেক আতঙ্কে উত্তর পূর্ব ভারত অসমে জনসংখ্যা বদলের বিস্ফোরক সতর্কতা হিমন্তর

বাংলাদেশের চলমান অস্থিরতা ও তার সরাসরি প্রভাব ভারতের নিরাপত্তার উপর এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, কূটনীতির সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। তাঁর কথায়, "যখন ওষুধ আর কাজ করে না, তখন অস্ত্রোপচার মানে সার্জারি করতেই হয়।

হিমন্তর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ভারতের কৌশলগত দুর্বলতা শিলিগুড়ি করিডর বা তথাকথিত চিকেন'স নেক। মাত্র কয়েক কিলোমিটার চওড়া এই ভূখণ্ডই উত্তর পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই অঞ্চল ভারতের সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক টেনশন পয়েন্ট। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার জমি সুরক্ষিত করা ছাড়া উপায় নাও থাকতে পারে তা কূটনৈতিক আলোচনায় হোক বা বলপ্রয়োগে। তিনি অবশ্য তাড়াহুড়ো না করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দেন "ইতিহাসেরও একটা সময় আসে," বলেন তিনি।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দিকেও কড়া আঙুল তোলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার বেশিদিন টিকবে না। বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের সীমান্ত রাজ্যগুলোর জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে তবে হিমন্তর মতে, এই সংকট অতীতের যেকোনও চ্যালেঞ্জের চেয়ে আলাদা।

১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হিমন্তর যুক্তি, সেই সময়ই যদি শিলিগুড়ি করিডরকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হত, তাহলে আজ এই সমস্যা থাকত না। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়াতেই আজও দেশকে এই করিডর ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

দেশভাগ পরবর্তী কংগ্রেস সরকারের নীতিকেও দায়ী করেন তিনি। দাবি করেন, গণভোট হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারতের পক্ষেই রায় দিতেন। ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে বহু মানুষ অনিচ্ছাসত্ত্বেও পাকিস্তানে থেকে যেতে বাধ্য হন, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজ জনসংখ্যা ও নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরেন হিমন্ত। দীপু নামে এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও মানুষের উপর নির্মমতা, ধর্ম নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে হত্যা করা হলে ক্ষোভ স্বাভাবিকভাবেই দ্বিগুণ হয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য আসে অসমের জনসংখ্যা কাঠামো নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ বাসিন্দা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যেখানে স্বাধীনতার সময় সেই হার ছিল মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। তাঁর ভাষায়, অসম এখন কার্যত একটি "বারুদের স্তূপের উপর বসে আছে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের জনগণনায় অসমে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় সমান হয়ে যেতে পারে, যা প্রশাসনিক শাসনকে আরও জটিল করে তুলবে।

হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশ দ্রুত চরমপন্থার দিকে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন হিমন্ত। এমন পথ অনুসরণকারী দেশের সঙ্গে ভারতের অবস্থান এক থাকতে পারে না ফারাক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক, বলেন তিনি।

শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন সীমান্ত রাজ্য হিসেবে অসম আজ বহুমুখী চাপে। একদিকে বাইরের হুমকি, অন্যদিকে ভেতরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সব মিলিয়ে এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে রাজ্য, যেখানে কঠিন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+