Waqf Amendment Bill: ‘ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা’, ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে দাবি গৌরব গগৈ-এর
Waqf Amendment Bill: সংসদে বুধবার ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশের পর রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু যখন বিলটি পেশ করেন, তখন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে এবং সংবিধানের উপর 4D আক্রমণ চালাচ্ছে।
গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন, নতুন সংশোধনীতে একটি বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র এমন ব্যক্তি ওয়াকফ অনুদান দিতে পারবেন যিনি কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্ম পালন করছেন।

কংগ্রেস নেতা বলেন, "এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে সরকার এখন ধর্মের সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছে। কেন মুসলমানদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরোপ করা হচ্ছে? সরকার কি অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকেও এমন শংসাপত্র চাইবে?"
সংসদে কিরেন রিজিজুর বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে গৌরব গগৈ বলেন, "এই বিলটি আসলে সংবিধানের উপর আক্রমণের সামিল। এর লক্ষ্য সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করা এবং ভারতীয় সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করা"।
গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন, ওয়াকফ আইনের পরিবর্তন নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (JPC) বিরোধীদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিটির আলোচনার পর ৬৬টি পরিবর্তন প্রস্তাব করা হলেও, বিরোধী দলের ৪৪টি পরিবর্তন বাতিল করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র বিজেপি ও মিত্র দলের ২৩টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। পরে সরকারের পক্ষ থেকে এই ২৩টির মধ্যে ১৪টি সংশোধনী গৃহীত হয়।
বিরোধী দলের সাংসদরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, তাদের মতামত চূড়ান্ত রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং তাদের ভিন্নমতপোষণকারী অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সরকার এই অংশ পুনর্বহাল করতে বাধ্য হয়। গগৈ বলেন, "আমি আগে কখনও এমন জেপিসি দেখিনি, যেখানে বিরোধীদের মতামতকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা হয়েছে"।
বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি সরকার এই বিলের মাধ্যমে নির্বাচনী রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে চাইছে। তারা দাবি করেছেন, বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে ইদের নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
গত বছরের আগস্ট মাসে প্রথমবার ওয়াকফ সংশোধনী বিল লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল, যা বিরোধীদের তীব্র আপত্তির কারণে কমিটিতে পাঠানো হয়। ছয় মাস ধরে আলোচনার পর এই রিপোর্ট ফেব্রুয়ারিতে জমা দেওয়া হয়। তবে বিরোধীরা অভিযোগ করেন যে, তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে। আজ ফের একবার বিল পেশের পর ৮ ঘণ্টার আলোচনায় সেই একই বিষয় বারে বারে তুলছেন বিজেপি বিরোধীরা।












Click it and Unblock the Notifications