তোষণের রাজনীতিই ডেকে আনছে বিপদ, বিহারের সীমাঞ্চল ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের

বিহার জুড়ে চলে তোষণের রাজনীতি। লালু প্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবারের নেতৃত্বে চলা রাষ্ট্রীয় জনতা দল তথা আরজেডি যে কীভাবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের তোষণ করে থাকে তা আজ সবারই জানা। বিশেষত বিহারের সীমাঞ্চল এলাকায় এই ধরনের রাজনীতির প্রভাবে ক্রমশ বাড়ছে অনুপ্রবেশ। আর সেটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক একটু রিপোর্ট বলছে বিহারের বেশ কিছু জায়গায় মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

এর মধ্যে রয়েছে কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া, কাটিহার ও পূর্ণিয়ার মত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলি। আর এভাবে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অনেকেই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশের কথা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, উদ্বেগ বাড়ছে জাতীয় ঐক্য নিয়েও।

একটা স্পময় ঐতিহাসিক জ্ঞানেশ উদাসিয়া উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশে কিভাবে হিন্দু জনসংখ্যা ক্রমাগত কমেছে। দেশ ভাগের সময় যেখানে ছিল ৪২ শতাংশ, ২০২২ সালে সেই হিন্দু জনসংখ্যায় কমে হয়েছে মাত্র ৭.৯৫ শতাংশ। যা চমকে দেওয়ার মতো বলে উল্লেখ ওই ঐতিহাসিকের। শুধু তাই নয়, বিহারের সীমাঞ্চলে যা পরিস্থিতি তাতে বাংলাদেশের মতোই অবস্থা হতে পারে বলেও আশঙ্কা।

সিমাচলে (Seemanchal) বেশিরভাগ জেলাতেই মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। সব থেকে বেশি মুসলিম রয়েছে কিষাণগঞ্জে। আর এই জনসংখ্যায় ওই এলাকায় আরজিডি কংগ্রেস ও এআইএমআইএম এর মতো রাজনৈতিক দলগুলির আধিপত্য বাড়াচ্ছে।

লালু প্রসাদের পরিবারে মুসলিমদের অনুষ্ঠানের আয়োজন পর্যন্ত করা হয়। বিশেষ করে লালুপ্রসাদ পত্নী রাবরী দেবী যেভাবে সেই মুসলিম রীতির আয়োজন করেন তাতেই স্পষ্ট যে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আরজেডির সঙ্গে তাদের সখ্যতা কতটা।

ইতিহাস বলছে, দেশভাগের সময় বিহারের মুসলমান জনসংখ্যা এক বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েছিল। সম্প্রতি পাকিস্তানের সিদ্ধ প্রদেশের বিধানসভার এক সদস্য সেই একই কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করে ছিলেন, বিহারের মুসলিমদের জন্যই তৈরি হয়েছিল পাকিস্তান।

এই মুসলিম তোষণের জন্যই বারবার সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের (CAA) বিরুদ্ধে কথা বলেছে আরজেডি। জানা যায়, বিহারে হিন্দুদের অনুষ্ঠানেও নানা ধরনের বাধা দেওয়া হয়। সরস্বতী পূজার শোভাযাত্রায় বাধা দেবার মত ঘটনায় দলের পক্ষপাতিত্ব সামনে আসে।

বিশেষত সীমাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে একটি ঘোষণা। আর তা হল ওই অঞ্চলের স্কুলগুলিতে শুক্রবার করে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে হিন্দুরা নানা ভাবে আক্রমণের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সীমাঞ্চলে এই দূষণের খেলা সেই একই অবস্থা তৈরি করতে পারে, ক্ষুন্ন হতে পারে ভারতের সার্বভৌমত্ব।

বিহারের এই পরিস্থিতি ভোট ব্যাংকের রাজনীতি কতটা ভয়ংকর তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে জাতীয় ঐক্য পর্যন্ত বিপর্যস্ত হতে পারে। এখন প্রশ্ন হল বিহারের রাজনৈতিক নেতারা এই একই পথে থাকবে? নাকি জাতীয় ঐক্যের কথা ভেবে দেখবে!

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+