পহেলগাঁও ছাড়াও জঙ্গিদের নজরে ছিল আরও তিন জায়গা, তবে শেষ মুহুর্তে বৈসরণ উপত্যকাকেই বেছে নেয় তারা!
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় বারবার একটি বিষয় জোরাল হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যেকে দাবি করেছেন ঘটনায় সময় কোনও নিরাপত্তা বাহিনী বৈসরণ ভ্যালিতে ছিল না। কার্যত নিরস্ত্র অবস্থাতেই মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করতে হয় ২৬ জনকে। আর এবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য এনআইএ প্রকাশ্যে আনল।
পহেলগাঁও ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র তদন্তে উঠে এল এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, বৈসরান উপত্যকার পাশাপাশি জঙ্গিরা আরু ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি এবং একটি বিনোদন পার্কে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর জোরদার উপস্থিতির কারণে শেষমেশ তারা ওই তিনটি স্থানে হামলা চালাতে পারেনি।

সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিলের ওই হামলার দুই দিন আগেই জঙ্গিরা বৈসরণ উপত্যকায় গা-ঢাকা দেয়। হামলার দিন নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তারা ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে হত্যা করে, যাঁদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও ছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চারজন OGW (অভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার) সন্ত্রাসীদের এই অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ জন OGW-কে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
হামলার ঘটনায় মোট ১৮৬ জন সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এই দুষ্কর্মের পিছনে টিআরএফ (The Resistance Front)-এর নাম উঠে এসেছে, যারা লস্কর-ই-তৈয়বার ছায়া সংগঠন বলে পরিচিত। তবে প্রথমে ঘটনার দায়ভার স্বীকার করলেও পরে তা খারিজ করে।
হামলার পরে নিহতদের পরিবার সদস্যরা গণমাধ্যমে জানান, হামলাকারীরা পর্যটকদের ধর্ম জানতে চেয়েছিল। যারা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, তাদের কলমা পাঠ করতে বলা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে দাবি করা পর্যটকদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বহু মহিলা ও শিশু প্রত্যক্ষদর্শী থাকায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা।
এই নারকীয় হামলা কাশ্মীর উপত্যকায় ফের শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে দিল। গোটা ঘটনায় পাকিস্তানের মদতের অভিযোগও উঠছে। বিশেষ করে সীমান্তপারে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। যার জন্যে ইতিমধ্যেই যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সীমান্তে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতিমধ্যেই উপত্যকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এনআইএ তদন্তের অগ্রগতি অনুসারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বৃহস্পতিবারই এলাকা পরিদর্শন করছেন এনআইএ-র ডিজি। জম্মু-কাশ্মীর এমনকি শ্রীনগরেও চলছে জোরদার তল্লাশি। আসলে মূল বার্তায় হল, পাকিস্তান কিংবা জঙ্গিদের যে এবার এতুটুকুও ছাড় দেওয়া হবে না, তাতে বদ্ধপরিকর ভারত।












Click it and Unblock the Notifications