রোহিনীর অপমানে ক্ষোভে ফুঁসছেন তেজ প্রতাপ, জয়চন্দদের কি তবে কড়া বার্তা দিলেন? জানুন
লালু প্রসাদ যাদবের মেয়ে রোহিনী আচার্য অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টা পর যে তাঁকে তাঁর ভাই তেজস্বী যাদব ও তাঁর সহযোগী আরজেডি সাংসদ সঞ্জয় যাদব "গালিগালাজ, অপমান এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্থা" করেছেন এবার তাঁর বড় ভাই ও জনশক্তি জনতা দল জেজেডির প্রধান তেজ প্রতাপ যাদব প্রকাশ্যে বোনের পাশে দাঁড়ালেন। তিনি বলেন, "আমার বোনের অপমান আমি সহ্য করব না।" রোহিনীর সঙ্গে যা হয়েছে তা "অসহনীয়" বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেজেডির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক পোস্টে তেজ প্রতাপ রোহিনীর একটি ভিডিও শেয়ার করে হিন্দিতে লেখেন, নিজের সঙ্গে হওয়া অন্যায় তিনি মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু বোনের অপমানের ঘটনায় চুপ থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, রোহিনীকে স্যান্ডেল ছোড়া হয়েছিল এ কথা শুনে তাঁর "ব্যথা আগুনে পরিণত হয়েছে।" কারও নাম না করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই ধরনের "জয়চন্দদের" বিহারের মানুষ কখনও ক্ষমা করবে না। তাঁর দাবি, "কিছু মানুষ তেজস্বীর বিবেককে ধোঁয়াশা করে দিয়েছে" এবং এই অন্যায়ের ফল "ভয়ঙ্কর" হবে।
তেজ প্রতাপ আরজেডি সভাপতি লালু প্রসাদ যাদবকেও হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানান। তিনি বলেন, "বাবা, একবার ইশারা করুন... আপনার এক নির্দেশে বিহারের মানুষ এই জয়চন্দদের মাটিতে মিশিয়ে দেবে।" তাঁর দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয় ও এটি "পরিবারের সম্মান, কন্যার মর্যাদা এবং বিহারের আত্মসম্মানের লড়াই।"
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির বড়সড় পরাজয়ের একদিন পরই রোহিনী আচার্য ঘোষণা করেন যে তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন ও পরিবার থেকেও সম্পর্ক ছিন্ন করছেন। আবেগঘন পোস্টে তিনি জানান, তাঁকে অপমান করা হয়েছে, গালিগালাজ করা হয়েছে এবং তাঁর দিকে স্যান্ডেল তোলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, নিজের আত্মসম্মান কোনওদিন বিসর্জন দেননি ও সত্য বলার ক্ষেত্রেও পিছপা হননি।
রোহিনীর অভিযোগ, পরিবারের কিছু সদস্য তাঁর সম্মান, অধিকার ও নিজের ঘর সব কেড়ে নিয়েছে। এমনকি তিনি বাবাকে কিডনি দান করায় তাঁকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে এবং অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি এটি রাজনৈতিক স্বার্থে করেছেন। এটিকে নিজের "সবচেয়ে বড় ভুল" বলে উল্লেখ করে তিনি মেয়েদের উদ্দেশে বলেন এ ভুল যেন কেউ না করে।
সাংবাদিকদের কাছে রোহিনী জানান, তিনি কোনও তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর অভিযোগ, তেজস্বী যাদব, সঞ্জয় যাদব এবং রমিজ তাঁকে "বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছেন" এবং নির্বাচনী ভরাডুবির দায় নেননি।
রোহিনীর এই বিস্ফোরক দাবি আরজেডির 'প্রথম পরিবার'-এর অন্দরে সংকট আরও ঘনীভূত করেছে। চলতি বছরই তেজ প্রতাপকে বিতর্কের জেরে দল ও পরিবার থেকে বহিষ্কার করা হয়; পরে তিনি জনশক্তি জনতা দল গঠন করলেও মহুয়ার আসনে তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
বিহার নির্বাচনে আরজেডির ভরাডুবির প্রেক্ষাপটে এই অন্তর্কলহ তীব্র আকার নিয়েছে। ১৪০টি আসনের মধ্যে আরজেডি জিতেছে মাত্র ২৫টি। অপরদিকে এনডিএ জোট ব্যাপক সাফল্য পেয়ে বিজেপি ও জেডিইউ যথাক্রমে ৮৯ ও ৮৫টি আসন দখল করেছে, এবং ২৪৩ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় জোট মোট ২০০রও বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। বিহার বিজেপি সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল এই ঘটনাবলিকে "পারিবারিক অভ্যন্তরীণ বিষয়" বলে উল্লেখ করে যাদব পরিবারকে ঐক্য ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications