ফলাফলের আগের দিন, লেফটেন্যান্ট গভর্নরের নির্দেশে এসিবি-র টিম পৌঁছালো কেজরিওয়ালের বাসভবনে, কিন্তু কেন?
আগামী শনিবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। এই গণনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে যে আম আদমি পার্টি চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরবে নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘ ২৭ বছর পর রাজধানীতে সরকার গঠন করবে। কংগ্রেসও তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের আশায় রয়েছে। অর্থাৎ এমন অবস্থায় দিল্লির আবহাওয়া বেশ সরগরম। টানটান উত্তেজনা রয়েছে ফলাফলের আগের রাতে।
তবে এই সবের মাঝে উত্তেজনা বাড়ালেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর আপ নেতাদের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে যে বিজেপি তাদের প্রার্থীদের দলত্যাগ করাতে চেষ্টা করছে। দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি) এই অভিযোগের তদন্ত করছে এবং ইতিমধ্যে কেজরিওয়ালের বাসভবনে পৌঁছেছে তারা।

লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অফিস জানিয়েছে, আপ অভিযোগ করছে যে বিজেপি তাদের বিধায়কদের দলে ভেড়ানোর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ও মন্ত্রিত্বের লোভ দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে সত্য উদঘাটনের জন্য গভীর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় সরগরম হয়েছে রাজধানীর রাজনীতি।
এই প্রসঙ্গে দিল্লি বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু মিত্তল এই অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, "অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সঞ্জয় সিং-এর অভিযোগ গুরুতর হলেও তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। যেমন ফোন কলের বিবরণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে না"।
তিনি আরও বলেন, "আমি অনুরোধ করছি যে এসিবি বা অন্য কোনো সংস্থা এফআইআর নথিভুক্ত করে সাতজন আপ বিধায়ককে ১৫ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত করুক"।
এই প্রসঙ্গে কেজরিওয়ালের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি ১৬ জন আপ প্রার্থীকে দলে টানার চেষ্টা করছে এবং প্রতিজনকে ১৫ কোটি টাকা ও মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দিয়েছে"। আপ রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংও একই দাবি করেছেন।
এদিন কার্যত যখন এসিবি-র টিম কেজরিওয়ালের বাসভবনের কাছে পৌঁছায়, তখন আপের আইনজীবী ঋষিকেশ কুমার তাঁদেরকে কেজরিওয়ালের বাসভবনে প্রবেশ করতে বাধা দেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, "তদন্ত বা তল্লাশির জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার লিখিত আদেশ থাকা উচিত। আইনি অনুমতি ছাড়া কোনো সম্পত্তিতে প্রবেশ বেআইনি এবং অনুপ্রবেশ বলে গণ্য হবে"। স্বাভাবিক ভাবেই এদিন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সদস্যরা কেজরিওয়ালের বাড়ির বাইরে থেকেই ফিরে আসেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল থেকে শুরু হবে ভোট গণনা পর্ব। বেলা গড়াতেই বোঝা যাবে, দিল্লি মসনদে কে বসতে চলেছেন। আর তার মধ্যে এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপ যে বাড়াচ্ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Click it and Unblock the Notifications