ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মাঝেই চরম সিদ্ধান্ত, যুদ্ধের ময়দানে ফিরছে ALH ধ্রুব হেলিকপ্টার
কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH) ধ্রুব-এর উড়ান ফের শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, একই হেলিকপ্টারের নৌবাহিনী সংস্করণ আপাতত স্থগিতই থাকছে।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে একটি সংবাদমাধ্যমের সূত্র ধরে। যেখানে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) জানায় যে, "ত্রুটি তদন্ত (Defect Investigation) কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সেনা ও বিমান বাহিনীর ধ্রুব সংস্করণগুলিকে অভিযানে ফেরানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে এক সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনার মাধ্যমে উড়ান শুরু হবে"।

নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার এখনও গ্রাউন্ডেড
HAL-এর এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান থাকায় ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো মাটিতেই থাকবে। তবে যদি প্রয়োজন পরে তবেই পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসের শুরুতে উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি ধ্রুব হেলিকপ্টার গুজরাটের পোরবন্দর বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। ঘটনায় প্রাণ হারান দুই পাইলট ও একজন বিমান ক্রু সদস্য। প্রশ্নের মুখে ওঠে ধ্রুব হেলিকপ্টারের কার্যক্রম। কোনও ত্রুটি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য উড়ান বন্ধ হয় ধ্রুব হেলিকপ্টারের।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই সব বাহিনীর জন্য প্রায় ৩৩০টিরও বেশি ধ্রুব হেলিকপ্টার গ্রাউন্ডেড করে দেওয়া হয়। পরে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বিশেষ করে পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলার পর, সীমিত পর্যায়ে ধ্রুব হেলিকপ্টারগুলোকে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এখন সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ব্যবহার উপযোগী ধ্রুব হেলিকপ্টারগুলো আবারও পুরোদমে অভিযানে অংশ নিতে পারবে। তবে সবকিছুই নির্ধারিত পরিকল্পনার অধীনে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। কীভাবে তা কাজ করবে, তা ধীরে ধীরে সময়ই বলবে।
মূলত, পহেলগাঁও হামলার পর দেশের প্রত্যেকটা মানুষ ক্রোধে পুড়ছে। সবার মুখে একটাই কথা, ২৬ নিরীহ প্রাণের পাল্টা বদলা চায়। পাকিস্তানের দিতে হবে কড়া জবাব। এমনই অবস্থা দেশের তিন সামরিক বাহিনীরও। আর এমন সময় তাঁদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
অর্থাৎ তিন সামরিক বাহিনী, জল, স্থল ও বায়ু যেভাবে খুশি পাকিস্তানের ওপর, সন্ত্রাসবাদের ওপর হামলা চালাতে পারে। তাঁদেরকে যেকোনও ভাষায় কড়া জবাব দিতে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই এই নির্দেশ পাওয়ার পরই ব্যস্ততা দেখা দিয়েছে তিন ক্ষেত্রেই। ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন, দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications