রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন কতজনের প্রাণভিক্ষার আর্জি নাকচ করেছেন রামনাথ কোবিন্দ ? জেনে নিন
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তার পাঁচ বছরের মেয়াদে ২০১২ সালের 'নির্ভয়া' কাণ্ড থেকে শুরু করে বিহার গণহত্যার অভিযুক্তদের জন্য ছয়টি প্রাণভিক্ষার আর্জি প্রত্যাখ্যান করেছেন।পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিং-এর হত্যাকারী বলবন্ত সিং রাজোয়ানা সহ আরও চারটি প্রাণভিক্ষার আর্জি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিচারাধীন এবং এগুলি পরবর্তী রাষ্ট্রপতির হাতে যেতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

কোবিন্দের রেকর্ড
রাষ্ট্রপতি নির্ব্বাচন ১৮ জুলাই নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম প্রাণভিক্ষার আর্জি যা কোবিন্দ প্রত্যাখ্যান নাকচ করেছিলেন তার নাম ছিল জগৎ রাই। সে তার সহযোগীদের সঙ্গে বিহারের বৈশালী জেলার রামপুর শ্যামচন্দ্র গ্রামে ২০০৬ সালে বিজেন্দ্র মাহাতোর পাঁচ সন্তান এবং স্ত্রীকে হত্যার করে। এর জন্য সে দোষী সাব্যস্ত হয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট রাইয়ের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে, রায় দেয় যে অভিযোগকারীর পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যা করা "বিরলতম অপরাধ"।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের অধীনে, রাষ্ট্রপতি কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমা মঞ্জুর করতে বা স্থগিত করতে এবং সাজা কমাতে পারেন। ২০২০ সালে, কোবিন্দ মুকেশ সিং, বিনয় শর্মা, অক্ষয় কুমার সিং এবং পবন গুপ্তের প্রাণভিক্ষার আর্জি প্রত্যাখ্যান করে দেন। এরা ২০১২ সালের নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া চার অভিযুক্ত। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে পাঁচজনের বিচার শুরু হয়। প্রধান অভিযুক্ত, রাম সিং, বিচার শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরে তিহার কারাগারে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল বলে জানা যায়। ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোরকে তিন বছরের জন্য সংশোধনাগারে রাখা হয়েছিল।

কোবিন্দের কাছে শেষ প্রাণভিক্ষার আবেদন
রাষ্ট্রপতির সচিবালয় অনুসারে, কোবিন্দের প্রত্যাখ্যাত সর্বশেষ প্রাণভিক্ষার আবেদনটি ছিল সঞ্জয় নামে এক ব্যক্তির। তাকে ২০০৬ সালের জুলাই মাসে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের জুলাই মাসে কোবিন্দ ওই ব্যক্তির আর্জি নাকচ করে দেন।

রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ড
কোবিন্দের পূর্বসূরি, প্রণব মুখার্জি (২০১২- ১৭) ৩০ টি করুণার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তার কাছে এমন ৩৪ টি মামলা এসেছিল , তিনি এঁদের মধ্যে মাত্র চারজন দোষীকে ক্ষমা করেছিলেন। প্রত্যাখ্যাতদের মধ্যে ছিল ২৬/১১-এর দোষী আজমল কাসাব, সংসদ হামলার দোষী মোহাম্মদ আফজাল গুরু এবং ১৯৯৩ সালের বিস্ফোরণের দোষী ইয়াকুব মেননের প্রাণভিক্ষার আবেদন।

প্রাক্তনদের রেকর্ড
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণন (১৯৯৭- ২০০২) করুণার আবেদনে কাজ করেননি যখন তার উত্তরসূরি রাষ্ট্রপতি আবদুল কালাম (২০০২-২০০৭) দুটি প্রাণভিক্ষার আবেদন নিষ্পত্তি করেছিলেন। ভারতের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল (২০০৭- ২০১২) ৩৪ টি প্রাণভিক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে সাজা কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং মাত্র পাঁচটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications