বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই করোনার ওষুধ বিক্রি! কাঠগড়ায় ১০ সংস্থা, সিবিআই তদন্তের দাবি
লাইসেন্স ছাড়া কোভিডের ওষুধ বিক্রি ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের, দাবি সিবিআই তদন্তের
কোভিড আবহে ইতিমধ্যেই ক্রমেই দেশজুড়ে বাড়ছে রেমডেসিভিরের চাহিদা। এদিকে এই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েো শুরু হয়েছে নতুন তর্জা। এরইমাঝে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই রেমডেসিভির ও ফ্যাপিপিরাভির বিক্রি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হল জন স্বার্থ মামলা। এমনকি সিবিআই তদন্তের দাবিও করা হয়েছে বলে খবর।

এক আইনজীবীর করা জনস্বার্থ মামলায় প্যাঁচে দশ সংস্থা
সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় প্রধানত দশটি ভারতীয় ওষুধ সংস্থার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়াই রেমডেসিভির ও ফ্যাপিপিরাভির নামে কোভিডের দুই সম্ভাব্য ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। সিবিআই হস্তক্ষেপেরও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের করার কথা বলা হয়। এদিকে বিশেষজ্ঞমহলে ইতিমধ্যেই, রেমডেসিভির ও ফ্যাপিপিরাভির-এর কোভিডনাশক ক্ষমতা সম্পর্কে জোরদার বিতর্ক জারি রয়েছে।

বেআইনি ভাবে ওষুধ বিক্রির অভিযোগে পিটিশন দাখিল
সূত্রের খবর, আইনজীবী এম এল শর্মা দেশের শীর্ষ আদালতে এই পিটিশন দাখিল করেছেন। পিটিশন অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন-এর অনুমোদন ছাড়াই কোভিডের সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে রেমডেসিভির ও ফ্যাপিপিরাভির প্ৰস্তুত ও বিক্রিতে অংশ নিয়েছে দশটি ওষুধ প্ৰস্তুতকারক সংস্থা। জনস্বার্থ মামলার বিবৃতি অনুযায়ী, "দেশের দশটি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা আমেরিকার গিলিয়াড সায়েন্সেস আইএনসি ও জাপানের সংস্থা ফুজিফিল্ম-এর সাথে গাঁটছড়া বেঁধে কোনোরকম সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কোভিডের সম্ভাব্য ও বিতর্কিত ওষুধ রেমডেসিভির ও ফ্যাপিপিরাভির উৎপাদনে ব্রতী হয়েছে। যা সর্বত ভাবে বেআইনি।"

ড্রাগ আইন, ১৯৪০-এর আওতায় মামলা দায়ের
আইনজীবী শর্মা সংস্থাগুলির বিরূদ্ধে ড্রাগ আইন, ১৯৪০-এর আওতায় প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ হেনেছেন। জনস্বার্থ মামলার বিবৃতি অনুযায়ী, "এখনও অবধি রেমডেসিভির ও ফ্যাপিপিরাভিরকে কোভিডের প্রতিষেধক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি। ভারত সহ কোনো দেশই এই দুই ওষুধ প্রস্তুতের অনুমোদন দেয়নি। এই দুটি ওষুধই এখনও ট্রায়ালের আওতায় রয়েছে।"

করোনা আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা? উঠে আসছে মারাত্মক অভিযোগ
করোনা আতঙ্কে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির মানুষ ব্যবসা করতে মাঠে নেমেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে। আইনজীবী এম এল শর্মার স্পষ্ট দাবি করোনা আতঙ্কে জনসাধারণ কিছু না জেনেই রেমডেসিভির কিনতে বাধ্য হচ্ছে। আর এই সুযোগে মানুষের অসহায়তাকে কাজে লাগাছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

দেদারে চলছে কালোবাজারি
এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই চড়াদামে রেমডেসিভির ও ফ্যাপিপিরাভির-র বিক্রি দেখা গেছে। অমনকী উঠে এসেছে কালোবাজারির অভিযোগও। পিআইএলে আরও বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত যেসকল হাসপাতালে এই দুই ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ৩০০ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে এবং এর থেকে এটা অন্তত স্পষ্ট যে, সংস্থাগুলি মানুষের ভয়কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে 'ভুল পথে পরিচালনা' করছে।

রেমডেসিভিরের জনক গিলিয়াড সায়েন্সেসের মুখে কুলুপ
মার্কিন সংস্থা গিলিয়াড সায়েন্সেস আইএনসি আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণ রুখতে রেমডেসিভির তৈরি করলেও খুব একটা কার্যকরী হয়নি সে ওষুধ। অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ হিসেবে ফ্যাপিপিরাভির প্ৰস্তুত করে জাপানের ফুজিফিল্ম। পিআইএলে উল্লিখিত ১০টি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার তালিকায় রয়েছে সিপলা লিমিটেড, ডঃ রেড্ডি'স ল্যাবরেটরিস লিমিটেড, হেটেরো ল্যাবস লিমিটেড ও জাইডাস ক্যাডিলা হেলথকেয়ার লিমিটেডের মত বড়ো বড়ো নাম।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications