গণধর্ষণে অভিযুক্ত হতে পারেন মহিলারাও! নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
কার্যত বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যযুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে আইনের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
Uttar Pradesh News: গণধর্ষণ (Gangrape) মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের (Allahabad High Court)। মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, মহিলারা ধর্ষণ করতে পারে না। কিন্তু যে মহিলা গণধর্ষণে সাহায্য করে সেও অন্যান্য অভিযুক্তদের মতো এই অপরাধে দোষী। যে কোনও মামলাতে দোষী সাব্যস্ত মহিলাকে যাবজ্জীবন জেলের সাজা শোনানো যেতে পারে।

শুধু তাই নয়, গণধর্ষণের মামলা প্রয়োজনে মহিলাদের বিরুদ্ধেও দায়ের করা যেতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আজ বিচারপতি শেখরকুমার যাদবের সিঙ্গল বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। যেখানে এই বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি হয়। আর সেই শুনানি শেষে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এমনটাই জানিয়েছে।
তবে এই বিষয়ে জানাতে গিয়ে আদালত ১৮৬০-এর ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০১৩ সালে সংশোধিত ১৩ নম্বর আইনের প্রসঙ্গটু তুলে ধরে। আর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই মহিলাদের ধর্ষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বিচারপতি শেখর কুমার যাদব। তিনি বলেন, মহিলারা ধর্ষণ করতে পারে না। তবে ওই মহিলা যদি এক দল লোকের সঙ্গে যুক্ত ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করতে সাহায্য করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ওই মহিলার বিরুদ্ধেও গণধর্ষণের মামলা করা যেতে পারে বলে জানাচ্ছে হাইকোর্ট।
অন্তত ২০১৩ সালে সংশোধিত ৩৭৫ এবং ৩৭৬(ই)-র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন বিচারপতি। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বলে রাখা প্রয়োজন, ৩৭৫ টি ভারতীয় দন্ডবিধিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারা অনুযায়ী যদি কোনও মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিংবা ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। কিংবা জোর করে করা হয় তাহলে তা আইনের চোখে একেবারে জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে ৩৬৭ (ই) ধারাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নির্ভয়ার পর এটি সংশোধন করা হয়েছিল। আর সেই মতো ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সাজা যাতে মৃত্যুদন্ড হয় সেজন্যে এই ধারা আনা হয়। এদিনের শুনানিতে হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয় যে, প্রয়োজন বুঝে সব কটি ধারাতে মহিলাদের যুক্ত করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, আবেদনকারী সুনিতা পান্ডে ৪৮২ ধারার অধীনে পিটিশনটি দায়ের করেছিলেন। এতে, আবেদনকারী বলেন যে, ২০১৫ সালের ২৮ জুলাইয়ে সিদ্ধার্থ নগরের কোতোয়ালি বাঁশিতে ১৫ বছরের একটি মেয়েকে অপহরণের জন্য এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছিল। নির্যাতিতা তার জবানবন্দিতে গণধর্ষণে আবেদনকারীর জড়িত থাকার কথাও বলেছেন। এতে চার্জশিট দেওয়া হয়নি। সে ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় সামনে আসে। সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হলে এদিন এমন পর্যবেক্ষণ করে আদালত।












Click it and Unblock the Notifications