গোবর ছাড়া মেলেনি কিছুই! গো-হত্যায় অভিযুক্তকে জামিন দিল হাইকোর্ট
গো হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তিকে অন্তবর্তী জামিন দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। নিজামুদ্দিন নামে ওই ব্যক্তিকে গো হত্যার অভিযোগে এফআইআর হয়। এই মামলাতে উত্তরপ্রদেশের গো-হত্যা আইনের অপব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি বলেও অভিযোগ।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি ফৈয়িজ আলম খানের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আর সেখানে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও পশু কিংবা পশুর মাংস উদ্ধার হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে তদন্তকারীরা আধিকারিকরা একটু গোবর ছাড়া কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।
আদালতে বেশ কয়েকজন সাক্ষী বয়ানে জানিয়েছেন, তাঁরা অভিযুক্তকে জামিল নামে এক ব্যক্তির আখের খেতের দিকে যেতে দেখেছিলেন। সঙ্গে ছিল একটা বাছুর। আদালত উল্লেখ করে, গরু কিংবা বাছুর পশ্য হিসাবে রাখা প্রতিটি গ্রামেই একটা সাধারণ মানুষ। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে গ্রামের মানুষ গরু কিংবা বাছুর রাখে।
একই সঙ্গে বিচারপতি বলেন, রাজ্যের দায়িত্ব হল নিরপেক্ষ তদন্ত করা। আর এই মামলাতে কোনও তদন্ত করা হয়নি বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। এই মামলাতে দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্তকে অন্তবর্তী জামিন দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের ডিজিকে কড়া বার্তা দিয়েছে আদালত।
শুধু তাই নয়, বিচারপতি ফৈয়িজ আলম খানের বেঞ্চের নির্দেশ, যে কোন ফৌজদারি মামলাতেই যাতে তদন্ত সঠিক এবং নিরপেক্ষ ভাবে হয় তা উত্তরপ্রদেশের ডিজিকে সুনিশ্চিত করতে হবে। 'গো-হত্যা প্রিভেনশন আইনে'র তিন-পাঁচ এবং আট নম্বর ধারাতে নিজামুদ্দিন নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়। মোট চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়।
অভিযোগ ছিল, ২০২২ সালের ১৬ অগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আখের খেতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় একটি গরুকে এফআইআরে উল্লেখ করা হয় যে, গ্রামবাসীরা নাকি অভিযুক্তকে বাছুর নিয়ে যেতে দেখেছিলেন। সেই মতো আধিকারিক আখের খেতে গেলেও গো হত্যার কোনও প্রমাণ পাননি।
শুধুমাত্র কিছু গোবর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপরেই সেটিকে ফরেন্সিকের জন্যে পাঠানো হয়। কিন্তু লখনউ ফরেন্সিক ল্যাবের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁরা তাঁদের গোবর পরীক্ষা করার পরিকাঠামো নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই এমন এফআইআর করা হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থল থেকে দড়ি আর গোবর ছাড়া কিছুই উদ্ধার না হওয়া সত্ত্বেও পেশ করা হয়েছে চার্জশিট। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই পুলিশের কাছে। শুধুমাত্র সন্দেহের বসে এত বড় ঘটনায় হাইকোর্টের তোপের মুখে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications