মণিপুরে হিংসা অব্যাহত! বেশ কিছু এলাকা বাদ দিয়ে আফস্পার অধীনে গোটা রাজ্য
মণিপুরের পার্বত্য এলাকাকে আবার আফস্পার অধীনে আনা হয়েছে। তবে এর মধ্যে উপত্যকার অঞ্চলগুলিতে থাকা ১৯ টি থানা এলাকাকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বুধবার জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মণিপুরের রাজ্যপাল ১৯ টি থানা এলাকা বাদ দিয়ে সমগ্র মণিপুরে আফস্পার অনুমোদন দিয়েছেন। ছয়মাসের জন্য মণিপুরকে অশান্ত এলাকা ঘোষণা করা হচ্ছে ১ অক্টোবর থেকে।
যে সব থানা এলাকায় ডিস্টার্বড এরিয়াস অ্যাক্ট জারি করা হয়নি, সেগুলি হল ইম্ফল, ল্যামফেল, সিটি, সিংজামেই, সেকমাই, লামসাং, পাস্তোল, ওয়াংগোই, রোপোম্পট, হেইনগাং, লামলাই, ইরিবুং, লেইমাখং, থৌবল, বিষ্ণুপুর, নাম্বোল, মইরাং, কাকচিন এবং জিরবাম।

উল্লেখযোগ্য যে, যে অঞ্চলগুলিকে আফস্পার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, সেগুলিতে মেইতেইরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। যার মধ্যে অসমের শিলচর উপত্যকা সংলগ্ন জিরিবামও রয়েছে। আফস্পার মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলস রাজ্য পুলিশের সম্মতি ছাড়া ১৯ টি থানা এলাকার অধীনে কাজ করতে পারবে না।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিরাপত্তা আধিকারিকরা সমগ্র রাজ্যকে আফস্পার অধীনে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যাতে উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি হ্রাস বা নির্মূল করা যায়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ইউএনএলএফ, পিএলএ, কেওয়াইকেএল, প্রেপাক ও কেসিপি তাদের ঘাঁটি তৈরি করেছে।
পাশাপাশি নিরাপত্তা আধিকারিকরা যে কোনও প্রতিবাদের সময় এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি যাতে ভিড়ের সঙ্গে মিশে গিয়ে উত্তেজনা ছড়াতে না পারে, সেব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। তাঁরা আরও জানিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে ইউএনএএফের ৩৩০ জন, পিএলএ-র ৩০০ জন এবং কেওয়াইকেএলের ২৫ জন সক্রিয় রয়েছে।
নিরাপত্রা আধিকারিকরা বলেছেন, মণিপুরে পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে লুট করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এইসব সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির হাতে গিয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে রাইফেল, মিডিয়াম মেশিন গান, একে অ্যাসল্ট রাইফেল, ইনসাস লাইট মেশিনগানের মতো অস্ত্রও রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলে আফস্পার সম্প্রসারণের তাৎপর্য কম। কেননা উপজাতি এলাকার ২০টিরও বেশি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী রাজ্য সরকারের সঙ্গে অপারেশন সাসপেনশন চুক্তি সই করেছে।
গত ৩ মে মণিপুরে জাতিগত হিংসা শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারিভাবে অন্তত ১৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছএন কয়েক শতাধিক। সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইদের তফশিলি উপজাতির মর্যাদার দাবির বিরোধিতা করে পার্বত্য জেলাগুলিতে উপজাতি সংহতি মার্চ হয়।
মণিপুরে জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ মেইতেই। তাঁদের বেশিরভাগই ইম্ফল উপত্যকায় বাস করেন। এছাড়া রাজ্যের ৪০ শতাংশ মানুষ নাগা ও কুকি সম্প্রদায় ভুক্ত। তাঁরা মূলত পার্বত্য জেলায় বসবাস করেন।












Click it and Unblock the Notifications