Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

অযোধ্যা মসজিদ: রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার নিস্পত্তির পরও ‘গল্প’ অসমাপ্তই

১০০০ পৃষ্ঠার একটি আদেশে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল কেন্দ্র বা উত্তরপ্রদেশ সরকারকে অযোধ্যায় একটি মসজিদ গড়ে তোলার উপযুক্ত ৫ একর জমি প্রদান করতে হবে।

রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার নিস্পত্তির পর কেটে গিয়েছে তিন বছর। কিন্তু একটি গল্প আজও অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে। আজও সেই গল্প শেষ অংকে এসে থমকে রয়েছে। মসজিদে ইট স্থাপন এখনও থমকে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায়। সরযু নদীর ওপারে যখন রাম মন্দির নির্মাণ শেষের পথে, তখনও ভিতে ইট গাঁথাও শুরু হয়নি একটিও।

সরযু নদীর ওপারে মসজিদ

সরযু নদীর ওপারে মসজিদ

২০১৯ সালের নভেম্বর মাস। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলিকে রাম মন্দির নির্ণাণের অনুমতি দেয়। ১৬ শতকে তৈরি হওয়া বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল, সেই স্থানেই রাম মন্দির নির্মাণের অনুমোদন পায় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি। আর বাবরি মসজিদ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া সরযু নদীর ওপারে।

অযোধ্যায় মসজিদ গড়ে তোলার জমি

অযোধ্যায় মসজিদ গড়ে তোলার জমি

১০০০ পৃষ্ঠার একটি আদেশে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল কেন্দ্র বা উত্তরপ্রদেশ সরকারকে অযোধ্যায় একটি মসজিদ গড়ে তোলার উপযুক্ত ৫ একর জমি প্রদান করতে হবে। সুন্নি ওয়াকফকে বোর্ড ওই জমি দিতে হবে মসজিদ নির্মাণের জন্য। সেই সম্পত্তি হস্তান্তরের কাজও একইসঙ্গে করতে হবে।

আইআইসিএফ নামে একটি কমিটি গঠন

আইআইসিএফ নামে একটি কমিটি গঠন

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউপি সরকার মন্দিরের স্থান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ধন্নিপুরে সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে প্লটটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। ওয়াকফ বোর্ড তখন মসজিদ-ই-অযোধ্যা নামে সৌধ নির্মাণের জন্য ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) নামে একটি কমিটি গঠন করে।

শহরের উপকণ্ঠে মসজিদের জমি

শহরের উপকণ্ঠে মসজিদের জমি

এ প্রসঙ্গে এক আইআইসিএফ সদস্য বলেন, জমি বরাদ্দের পরেও কিছুই এগোয়নি। আমরা কোনও বিশিষ্টস্থানে জমি পাইনি। শহরের উপকণ্ঠে আমরা জমিটি পেয়েছি। প্রথমে বাধা ছিল পরিকল্পনা অনুমোদনের। ৪৫০০ বর্গমিটারজুড়ে মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এছাড়াও একটি হাসপাতাল, কমিউনিটি কিচেন, লাইব্রেরিও ছিল।

একটি গবেষণা কেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধার নামে

একটি গবেষণা কেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধার নামে

আর ছিল মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী আহমদুল্লাহ শাহকে উৎসর্গ করা একটি গবেষণা কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। সমস্ত বিল্ডিংয়ের নকশাটি করেন অধ্যাপক এস এম আখতার। তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার ও ইকস্টিক্স অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন।

রাস্তাটি কমপক্ষে ১২ মিটার চওড়া হওয়া উচিত

রাস্তাটি কমপক্ষে ১২ মিটার চওড়া হওয়া উচিত

ট্রাস্ট সমস্ত ফি-সহ অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে সেই নকশা জমা দিয়েছে। তারপর অনলাইনেও আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। বিভিন্ন বিভাগ থেকে এনওসি পেতেই তিন বছর সময় কেটে গিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি এক বছরের বেশি সময় ধরে চলছিল। মসজিদ কমিটি বেশিরভাগ এনওসি ম্যানেজ করেছিল। কিন্তু ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কোনও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট তারা পায়নি। বাইরের রাস্তাটি কমপক্ষে ১২ মিটার চওড়া হওয়া উচিত বলে তারা অনুমোদন আটকে রেখেছে।

কাগজপত্রে জন্য এক অফিস থেকে অন্য অফিস

কাগজপত্রে জন্য এক অফিস থেকে অন্য অফিস

আইআইসিএফের ট্রাস্টি আরশাদ আফজল খাঁ বলেন, কাগজপত্র তৈরি করার জন্য এডিএ অফিস, ডিএম অফিস এবং অন্যান্য বিভাগ ছোটাছুটি করেন তিনি। রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এডিএ-কে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু যখন এটি বিবেচনা করা হচ্ছিল, তখনই আরেকটি বাধা এসে দাঁড়ায়।

রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েও অনুমোদন মেলেনি

রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েও অনুমোদন মেলেনি

তিনি বলেন, মাস পাঁচেক আগে আমাকে বলা হয়েছিল যে, আমাদের দেওয়া প্লটটিতে কোনও নির্মাণ ঘটতে পারে না। কারণ এটি কৃষি জমি। তাই, এডিএকে জমির চরিত্র পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এর জন্য আমরা এডিএ এবং রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

প্রথম অনুদান পেয়েছেন একজন হিন্দুর থেকে

প্রথম অনুদান পেয়েছেন একজন হিন্দুর থেকে

এডিএ সেক্রেটারি সত্যেন্দ্র সিং মসজিদ নির্মাণে কোনো প্রশাসনিক বাধা অস্বীকার করেছেন। কোনও বিলম্ব নয়, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই সরকারের কাছ থেকে সমস্ত অনুমতি নিয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শীঘ্রই তা সম্পূর্ণ হবে বলে তিনি জানান। মন্দিরের মতো মসজিদও হচ্ছে জনতার ফান্ডে। এখনও পর্যন্ত, আইআইসিএফ ভারতজুড়ে মানুষের কাছ থেকে ৪০ লক্ষ অনুদান পেয়েছে। মসজিদ ট্রাস্টের সদস্যরা বলছেন, তারা প্রথম অনুদান পেয়েছেন একজন হিন্দুর কাছ থেকে।

শান্তির বার্তা পাঠাতে মসজিদটি তৈরি

শান্তির বার্তা পাঠাতে মসজিদটি তৈরি

মন্দিরের জন্য, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং মন্দির ট্রাস্ট ৩৫০০ কোটিরও বেশি সংগ্রহ করতে পেরেছে। মসজিদ ট্রাস্টের পক্ষ বলা হয়, শতাব্দীর দীর্ঘ বিরোধ মিটিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে আমরা মসজিদ নির্মাণে ব্রতী হয়েছি। আমরা শান্তির বার্তা পাঠাতে এই মসজিদটি তৈরি করতে চাই। নকশা তৈরি ও অনুদান পাওয়ার পর আমরা সম্প্রদায়ের মধ্যে আশার সঞ্চার করতে পেরেছি।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+