আকাশপথের সংকটের রেশ রেলে, কাজের সময় কমানোর দাবিতে সরব লোকো পাইলটরা
ইন্ডিগো সংকটের রেশ কাটতে না কাটতেই কাজের সময় ও ক্লান্তি বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে রেল দপ্তরে। এবার ভারতীয় রেলের লোকো পাইলটরা স্পষ্টভাবে দাবি তুললেন দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমিয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (এআইএলআরএসএ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইন্ডিগো সঙ্কট দেখিয়ে দিয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপ কীভাবে গোটা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করতে পারে। বিমান চালকদের কাজের সময় নির্ধারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিলেও, রেলের মতো সরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড প্রয়োগে দ্বিচারিতা রয়েছে বলেই অভিযোগ সংগঠনের।

সংগঠনের বক্তব্য, সরকারি সংস্থায় কর্মীরা আন্দোলনে নামলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, চার্জশিট বা বিভিন্ন 'কালো আইন' এর মাধ্যমে দমন করা হয়, যার যুক্তি হিসেবে দেখানো হয় জনস্বার্থ বা জরুরি পরিষেবা। অথচ বড়বড় বেসরকারি সংস্থা যখন নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানতে গরিমসি করে, তখন সরকার নরম হয়ে যায় এমনকি ব্যবস্থার সুরক্ষাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বিমান পরিবহণ বিপর্যয়ের মূল কারণ ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে পাইলটদের বিশ্রাম সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে কার্যকর না করা। গত নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সংশোধিত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল) ও ফ্যাটিগ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফআরএমএস) মানা না হওয়ায় গোটা দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাই কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
এআইএলআরএসএ এর দাবি, এই সমস্যা নতুন নয়। লোকো পাইলটরা বহু দশক ধরেই বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে কাজের সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশ্বজুড়েই ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম তৈরি হয়েছে দীর্ঘ গবেষণা ও অতীতের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে। ইউরোপে কড়া ডিউটি ও বিশ্রাম সীমা, আমেরিকায় আওয়ার্স অব সার্ভিস আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিশ্রাম, কিংবা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উন্নত বায়োম্যাথেমেটিক্যাল মডেল সবই নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস না করার উদাহরণ।
এই প্রেক্ষাপটে, রেল দপ্তরের কাছে সংগঠনের স্পষ্ট দাবি এফআরএমএস ভিত্তিক কর্মঘণ্টা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ছয়ঘণ্টার ডিউটি, নির্দিষ্ট বিশ্রামের সময়সূচি, প্রতিটি শিফটের পর অন্তত ১৬ ঘণ্টা বিশ্রাম ও দৈনিক বিশ্রামের পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
লোকো পাইলটদের বক্তব্য, নিরাপত্তা কোনও পক্ষপাতমূলক নীতিতে চলতে পারে না। আকাশপথ হোক বা রেলপথ, কর্মীদের সুস্থতা ও বিশ্রাম নিশ্চিত না হলে, ঝুঁকি বাড়বে গোটা ব্যবস্থারই।












Click it and Unblock the Notifications