'যুদ্ধবিরতি'র পর ফের দিল্লির দিকে যাত্রা! প্রস্তুতি শুরু আন্দোলনরত কৃষকদের
ফের দিল্লি যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করেছেন আন্দোলনরত কৃষকরা। পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় কৃষকদের। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামানও ব্যবহার করে। সেই সময় কিছুটা পিছিয়ে, ফের দিল্লি যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করেছেন কৃষকরা।
এবারের কৃষক বিক্ষোভে ২০২০-২১ সালের বিক্ষোভ প্রতিধ্বনিত হয়েছে। কারণ হাজার হাজার কৃষক, বেশিরভাগই পঞ্জাবের, তারা দিল্লি যাওয়ার ব্যারিকেডগুলি লঙ্ঘনের চেষ্টা করার সময় প্রচুর পুলিশের মুখোমুখি হন। হরিয়ানা পুলিশ তাদের রাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস, জল কামান ব্যবহার করে। এছাড়াও কংক্রিটের স্ল্যাবও ব্যবহার করা হয়। নজরদারিতে রাখা ছিল ড্রোনও।

এর আগে কেন্দ্রের মন্ত্রীদের সঙ্গে একদফা আলোচনা করেন আন্দোলনরত কৃষকরা। কিন্তু সেখানে কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। কৃষকদের এই আন্দোলন পরিচালনা করছে কিষাণ মোর্চা ও কিষাণ মজদুর মোর্চা। তাদের দাবি মধ্যে রয়েছে ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য এবং ঋণ মকুবের আইন।
মঙ্গলবার কৃষকরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হরিয়ানা পুলিশের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারী কৃষকদের দিল্লির দিকে অগ্রসর হতে বাধা দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সেই সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুঁড়তে শুরু করলে এবং ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কৃষকরা দীর্ঘদিনের জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ছয়মাসের রেশন এবং ডিজেল নিয়ে তারা আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এদিকে এই সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে পঞ্জাব সরকার হরিয়ানা সীমান্তে কাছাকাছি থাকা হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করেছে এবং অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি পঞ্জাব সরকার হরিয়ানা সরকারকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার হরিয়ানা সীমান্তের পরিস্থিতি গ্রাস করেছে দিল্লিকেও। দিল্লির সীমানায় চেকিংয়ের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। সিঙ্গু, গাজিপুর ও চিল্লা সীমানার কাছের রুটগুলি অবরুদ্ধ। ফলে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে। বুধবারও এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে।
অন্যদিকে কৃষকরা দিল্লি চলোর প্রস্তুতি নেওয়ায় দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমানায় বিক্ষোভকারীরা সুরক্ষা কর্ডন ভেঙে সিমেন্টের ব্লক সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ব্যারিকেড ও কাঁটাগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications