দেশজুড়ে ৩৩৮ উড়ান ব্যাহত, বাধ্যতামূলক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার আপডেটে তৎপর বিমান সংস্থাগুলি
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সতর্কতার প্রেক্ষিতে ভারতের আকাশপথে বড়সড় ঝাঁকুনি। এয়ারবাস A320 পরিবারের বিমানে ফ্লাইট কন্ট্রোল মডেলের ত্রুটি ধরা পড়ায় জরুরি নির্দেশ জারি করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। ফলে গত কয়েক দিনে দেশে মোট ৩৩৮টি উড়ান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
ডিজিসিএ জানিয়েছে, আক্রান্ত বিমানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার ইএলএসি এর নির্দিষ্ট মডেলে ত্রুটি পাওয়া গেছে। ইএলএসিএ এর (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি) জারি করা জরুরি নির্দেশের পরই ভারতেও একই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। নির্দেশ বলছে, যেসব বিমানে ত্রুটিযুক্ত ইএলএসিএ রয়েছে, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার আপডেট না হওয়া পর্যন্ত একটিও বিমান উড়তে পারবে না।

সম্প্রতি একটি A320 বিমানে সীমিত মাত্রার "অপ্রত্যাশিত পিচ ডাউন" তৈরি হয়। অটোপাইলট চালু থাকলেও বিমানের সামনে ঝোঁকার প্রবণতা নজরে আসে। যদিও বিমানের যাত্রাপথ বিপদে পড়েনি, এই আচরণই গা ছমছমে সন্দেহ তৈরি করে। তদন্তে দেখা যায়, এলএসি এর B L104 সংস্করণে সম্ভাব্য ত্রুটি রয়েছে, যা চরম পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণহীন এলিভেটর মুভমেন্ট ঘটাতে পারে।
এমন বিপদের সম্ভাবনা এড়াতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নির্দেশ জারি হয়, পরবর্তী কোনও উড়ানের আগে বাধ্যতামূলকভাবে ত্রুটিযুক্ত ইউনিট বদলে ফেলতে হবে।
ইন্ডিগো এয়ার ইন্ডিয়ার দৌড়
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ২০০টি বিমানে এই পরীক্ষা প্রয়োজন। সংস্থাটি জানিয়েছে ১৬০টির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ, বাকিটিও সময়মতো সম্পূর্ণ হবে। কোনো উড়ান বাতিল হয়নি, তবে স্বল্প বিলম্বের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেও একই ছবি। সংস্থাটি ৪০ শতাংশ বিমানের আপডেট সম্পন্ন করেছে, বাকি কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। কিছু উড়ান দেরিতে ছাড়লেও বড়সড় বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন।
ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে বাড়ানো হয়েছে, রোটেশন প্ল্যান পাল্টানো হচ্ছে, প্রয়োজনমতো বিমানের বদল করা হচ্ছে, বড় বহর সামলাতে দুই সংস্থাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। তবুও যাত্রীদের গেট পরিবর্তন, সময়সূচি বদল বা স্বল্প নোটিসে রি শিডিউলের মুখে পড়তে হতে পারে।
ডিজিসিএ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে "ত্রুটিযুক্ত ইএলএসি যুক্ত কোনও বিমান উড়তে পারবে না।"
যেসব বিমানে আপডেটেড কম্পিউটার ইতিমধ্যেই বসানো আছে, সেগুলো পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবে। বাকিগুলি আপগ্রেড না হওয়া পর্যন্ত থাকবে গ্রাউন্ডেড।
সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে
ইএএসএ ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যে ডেডলাইন দিয়েছে, তার মেয়াদ শেষ হবে আগামীকাল ভোর ৫:৩০ এ। যে বিমান তার মধ্যে আপডেট না পাবে, তা আপাতত হ্যাঙ্গারেই আটকে থাকবে।
তবে ইতিমধ্যেই দেশের বেশিরভাগ বিমানে কাজ শেষ বা প্রায় শেষ। তাই বিমান সংস্থাগুলি শেষ মুহূর্তে দ্রুত বাকি আপগ্রেড সারতে মরিয়া।












Click it and Unblock the Notifications