'সাইকো' মা! নিজের সন্তান সহ ৪ শিশুকে হত্যা, বিকৃত হিংসার আসল কারণ জানেন? স্তম্ভিত সকলে
বিয়েবাড়িতে সুন্দর ভাবে সেজেগুজে যাওয়াটাই হয়েছিল কাল! ভারতের হরিয়ানায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। সৌন্দর্যের প্রতি অদ্ভুত ঈর্ষা থেকেই ছ'বছরের ভাইঝিকে হত্যা করার অভিযোগে পানিপত পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল এক মহিলা। মহিলাটির নাম পুনম। তবে এটাই তাঁর প্রথম বার নয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, আর আগেও নিজের সন্তান সহ চার শিশুকে হত্যা করেছেন তিনি। এই খুন গুলি করার একটাই কারণ। কেউ যদি পুনমের থেকে দেখতে সুন্দর হত তাহলে সেটা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। তিনি কখনওই চাইতেন না যে পরিবারের কেউ তাঁর চেয়ে বেশি সুন্দর দেখতে থাকুক।

জানা গিয়েছে, পুনমের হাতে যতজন খুন হয়েছে সবাই তাঁর নিজেরই আত্মীয়ের সন্তান। খুনগুলি আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য তিনি নিজেই নিজের ছেলেকে খুন করেছিলেন। তবে, প্রত্যেকবার একটার পর একটা খুন করার পরে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে থাকলেও শেষ বার তিনি পুলিশের হাতে ধরা পরে যান। পুলিশের কাছেই তিনি যে চারটি খুন করেছেন, সেই কথা স্বীকারও করেছেন। বুধবার হরিয়ানার পানিপথের পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে যে, চারজনকেই চৌবাচ্চার জলে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকা মেয়েটির নাম বিধি। মেয়েটির বাড়ি সোনপতে। গত সোমবার মেয়েটি তার পরিবারের সঙ্গে পানিপতের ইজরানা এলাকার নৌলথা গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সুন্দর করে সেজেগুজে এসেছিল। হঠাৎ করে মেয়েটির বাবার কাছে ফোন আসে একটি ফোন আসে এবং তিনি খবর পান যে, তাঁর মেয়ে নিখোঁজ। বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন বাড়ির সকলে মেয়েটির খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু কেউ খোঁজ পায়না। প্রায় এক ঘণ্টা পর মেয়েটির ঠাকুমা তাঁর নাতনির খোঁজে তাঁদের আত্মীয়ের বাড়ির গুদামঘরের সামনে গেলে তিনি সেখানে সেই ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো দেখতে পান। সেই দরজা খোলার পর তিনি মেয়েটির মাথা একটি জলের গামলার মধ্যে ডোবানো আর মেয়েটির পা মাটিতে রয়েছে দেখতে পান। সেখান থেকে তাড়াতাড়ি মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারপরেই মেয়েটির দাদু পুলিশের কাছে তার খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নামার পরে পুলিশ জানতে পারে এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও চার শিশুর মৃত্যু ঠিক একই কারণে হয়েছে। সেটা থেকেই পুলিশের মনে সন্দেহ জাগে। প্রত্যেকটা বাচ্চার মৃত্যু অগভীর জলে হয়েছে। তাতেই পুলিশ এই খুনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। পুলিশ ওই মহলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে, প্রত্যেকটা বাচ্চাকে পুনমই হত্যা করেছেন। আর সেই হত্যার একটাই কারণ। কেউ যদি ওই মহিলার থেকে দেখতে সুন্দর হত তাহলে সেটা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। তিনি কখনওই চাইতেন না যে পরিবারের কেউ তাঁর চেয়ে বেশি সুন্দর দেখতে থাকুক। তাই পরিবারে তাঁর থেকে বেশি যাকে সুন্দর লাগতো তাকেই তিনি মেরে ফেলতেন।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় আরও জানতে পারে যে, ২০২৩ সালে পুনম তাঁর জায়ের ন'বছরের মেয়েকেও জলের ট্যাঙ্কে ডুবিয়ে খুন করেছিলেন। তারপরে পুলিশের সন্দেহ এড়ানোর জন্য তিনি নিজের ছেলেকেও ডুবিয়ে খুন করেন। চলতি বছরের অগস্ট মাসে পুনম তাঁর তুতো ভাইয়ের ছ'বছরের মেয়েকেও খুন করেন। পুনমের দাবি এদের প্রত্যেকেই তাঁর থেকে 'বেশি সুন্দর' দেখতে। সেই অপরাধে তাদের সবাইকে খুন হতে হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ এড়ানোর জন্য নিজের ছেলেকেও ছাড়েননি তিনি। দু'বছরে নিজের সন্তানকেও একই ভাবে জলে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন তিনি।
শেষবার খুনের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পানিপত পুলিশ এই রহস্যের ইতি টেনেছে। পুলিশের জেরায় তিনি সবকটা খুনের কথাই স্বীকার করে নিয়েছে। যদিও পুনমের এই স্বীকারোক্তির আগে পর্যন্ত এই সব মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications