হাড়হিম ঘটনা! প্রেমিকের সঙ্গে ছক কষে স্বামীকে খুন, টুকরো টুকরো করলেন দেহ, তারপর?
উত্তরপ্রদেশের এক ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা সামনে এল। প্রথমে এই ঘটনাটিকে নিখুঁত 'ব্লাইন্ড মার্ডার' বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি ভুলেই ফাঁস হয়ে গেল পুরো ষড়যন্ত্র। স্বামীকে খুন করে সেই দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্ত্রী রুবি এবং তার প্রেমিক গৌরবকে।

কীভাবে সামনে এল ঘটনা?
গত ১৫ ডিসেম্বর, চন্দৌসি কোতোয়ালি থানার পুলিশ পাটরুয়া রোডের ইদগা এলাকার এক নালা থেকে একটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করে। সেই ব্যাগের ভিতরে ছিল একটি পচাগলা দেহের ধড়। দেহে মাথা, হাত এবপং পা ছিল না। ফলে পরিচয় শনাক্ত করাই তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ময়নাতদন্তের সময় পুলিশ লক্ষ্য করে যে, দেহটির একটি হাতে 'রাহুল' লেখা ট্যাটু রয়েছে। সেই ট্যাটুই তদন্তে প্রথম বড় সূত্র দেয়। এরপরই নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায় যে, ২৪ নভেম্বর একই থানায় রুবি নামের এক মহিলা তাঁর স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর স্বামীর নাম ছিল রাহুল। দেহ শনাক্ত করার জন্য রুবিকে থানায় ডেকে আনা হয়। রুবিকে উদ্ধার হওয়া পোশাক দেখানো হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ওই দেহ তাঁর স্বামীর নয়। কিন্তু জেরা করার সময় তাঁর কথাবার্তায় অসংগতি ও অস্বস্তি পুলিশকে সন্দেহে ফেলে। তারপরেই রুবির মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ। ফোনের গ্যালারিতে এমন কিছু ছবি পাওয়া যায়, যেখানে রুবির সঙ্গে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছেন, যাঁর পরনে ছিল ঠিক সেই টি-শার্টটি, যা দেহটির সঙ্গে উদ্ধার হয়েছিল। পোশাক এবং ছবির মিল দেখানোর পরই ভেঙে পড়ে রুবি। জেরা করে সে স্বীকার করে নেয় খুনের কথা।
রুবি জানায়, তার সঙ্গে গৌরব নামের স্থানীয় এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। রুবির দাবি, ১৭-১৮ নভেম্বর গভীর রাতে গৌরব তার বাড়িতে এসেছিল। রাত প্রায় ২টো নাগাদ হঠাৎই রাহুল বাড়ি ফিরে এসে দু'জনকে একসাথে দেখে ফেলে। তারপরেই শুরু হয় তুমুল ঝগড়া। সেই সময় রুবি ভারী কোনও জিনিস দিয়ে রাহুলের মাথায় জোরে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাহুলের।
খুনের পর দু'জনে মিলে প্রমাণ লোপাটের ছক বানাতে থাকে। গৌরব একটি কাটার মেশিন জোগাড় করে। এরপর রাহুলের দেহের মাথা, হাত এবং পা আলাদা করা হয়। বাজার থেকে দু'টি বড় কালো ব্যাগ কিনে আনে রুবি।
পুলিশ জানিয়েছে যে, একটি ব্যাগে মাথা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভরে রাজঘাটের কাছে গঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়। অন্য ব্যাগে ধড় রেখে নালায় ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের নজর ঘোরানোর জন্য ঘটনার কয়েক দিন পর, ২৪ নভেম্বর থানায় গিয়ে রুবি স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ জানিয়েছে যে, দেহে থাকা ট্যাটু আর মোবাইলে পাওয়া ছবিই এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে সাহায্য করে। রুবির বাড়ি থেকে কাটার মেশিনসহ একাধিক আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টেও নিশ্চিত হয়েছে যে, দেহ ওই বাড়িতেই টুকরো করা হয়েছিল।
বর্তমানে রুবি এবং গৌরব দু'জনেই পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বাকি দেহাংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এই নির্মম ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications