ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ফের জুড়ল মামলা, সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হল নতুন আবেদন

লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির মাধ্যমে ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫ আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর পরপরই দেশের একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দাখিল করেছে। অভিযোগ, এই আইন একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্বায়ত্তশাসিত অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে।

কেরালার সুন্নি মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মগুরুদের ধর্মীয় সংগঠন সমস্থ কেরালা জামিয়াতুল উলেমা অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী পিএস-এর মাধ্যমে শীর্ষ আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন। এতে বলা হয়েছে, নতুন সংশোধনী আইনটি ওয়াকফ বোর্ড পরিচালনার গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ধর্মীয় দানের প্রকৃতি বিকৃত করবে।

Supreme Court

আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এই আইন সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন, যা ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলিকে নিজেদের ধর্মীয় বিষয় পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। আইনে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে, এটি ভারতের ফেডারেল কাঠামোর বিরোধী। রাজ্য সরকার এবং রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা খর্ব করে সব নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, এই পরিবর্তনের ফলে মুসলিম সম্প্রদায় ওয়াকফ সম্পত্তির একটি বড় অংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে, যা ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্প্রদায়কে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলবে। আর্থিক সমস্যায় পড়বে মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ।

এই আইনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ, AIMIM সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, এবং আপ বিধায়ক আমানতুল্লাহ খান সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। এছাড়াও, অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (APCR) নামক একটি এনজিও-ও এই আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Take a Poll

জাভেদের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, "এই বিলটি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাচারী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী"। অ্যাডভোকেট আনাস তানভীর-এর মাধ্যমে দায়ের করা আরেকটি আবেদনে বলা হয়েছে, "এই আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, যা অন্য ধর্মীয় দানের ক্ষেত্রে নেই"।

ওয়াকফ আইন নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বিতর্ক এখনও তুঙ্গে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদনের ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় কতটা সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, এখন নজর সেই দিকেই। আর শীর্ষ আদালত এই বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পরও কি বিচার বিবেচনা করে, এখন সেটাই দেখার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+