ভারতে আকৃষ্ট ‘অ্যাপল’, ২০২৬-এর মধ্যে চিনের বদলে এই দেশেই তৈরি হবে ৭-৮ কোটি আইফোন
চিন থেকে উৎপাদন বৈচিত্র্য এনে অনিশ্চয়তা কমানোর লক্ষ্যে ভারতকে দ্বিতীয় প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চলেছে অ্যাপল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি থেকে ৪.৩ কোটি আইফোন উৎপাদন হয়, যার ৮০ শতাংশই রপ্তানির জন্য নির্ধারিত।
এবার যা জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদন বেড়ে বছরে ৭ থেকে ৮ কোটি ইউনিটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতে ফক্সকন ও টাটা ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে আইফোন উৎপাদন করছে অ্যাপল। টাটা সম্প্রতি উইস্ট্রন এবং পেগাট্রনের কারখানাগুলিও অধিগ্রহণ করেছে, যা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ভারত থেকে বিশ্বব্যাপী বিক্রীত আইফোনের প্রায় ৪০ শতাংশই উৎপাদিত হবে। বর্তমানে এই হার ১৮-২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই রূপান্তর সহজ করতে অ্যাপল এবং তাদের সরবরাহকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে কেন্দ্র। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন খাতে ভারতের অবস্থান মজবুত করার লক্ষ্যে নানা নীতিগত সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।
আইডিসি ইন্ডিয়ার সহযোগী ভাইস প্রেসিডেন্ট নবকেন্দ্র সিং বলেন, "২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী আইফোন চালানোর ১৭-২০ শতাংশ ইতিমধ্যে ভারতে তৈরি হচ্ছে। উৎপাদন দ্বিগুণ করতে গেলে বছরে ৭-৮ কোটি ইউনিট উৎপাদনের প্রয়োজন হবে"।
অ্যাপল ইতিমধ্যেই ২০২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার আইফোন রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে উৎপাদনের এই স্থানান্তর অনেকাংশে নির্ভর করবে ভারত তার নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ব্যয় সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না তার উপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে উৎপাদনের খরচ চিন এবং ভিয়েতনামের তুলনায় ৭-৭.৫ শতাংশ বেশি। উৎপাদন ব্যয় কমানো ও শুল্ক কাঠামো সহজীকরণ জরুরি, না হলে উৎপাদকরা বিকল্প বাজারে সরতে পারে।
ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন (ICEA) এবং নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, বিশেষত উপাদান শুল্ক কমানো ও সরবরাহ চেইন সহজীকরণের দিকে বেশি নজর রাখতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বাণিজ্য নীতির আলোকেও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নয়াদিল্লিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী, লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি করার দিকে নজর দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ভারতের উৎপাদনক্ষেত্র আরও নিরাপদ ও লাভজনক হয়।












Click it and Unblock the Notifications