সরকারি চাকরি এবং গ্র্যাচুইটির টাকা নিয়ে বিবাদ, বৌমাকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার শাশুড়ি
টাকার লোভে ভয়াবহ পরিণতি মহারাষ্ট্রে! সরকারি চাকুরে ছেলের মৃত্যুর পর গ্র্যাচুইটি এবং চাকরির দাবিকে কেন্দ্র করে বৌমাকে খুনের অভিযোগ উঠল শাশুড়ির বিরুদ্ধে। মহারাষ্ট্রের ঠানের কল্যাণ এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বছরের প্রথম দিনেই একটি সেতুর কাছে গুরুতরভাবে জখম অবস্থায় এক যুবতীকে উদ্ধার করা হয়। মাথা এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল ওই মহিলার। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তার পরের দিন থানায় নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করতে আসেন এক বৃদ্ধা। বয়স ৬০ বছর। নাম লতাভাই গাঙ্গুরে। মহিলার মৃত দেহটি শনাক্ত করেন ওই বৃদ্ধা। মৃতা ছিলেন তাঁর পুত্রবধূ, ৩৫ বছরের। নাম রূপালি গাঙ্গুরে। কিন্তু তদন্তে নামার পর পুলিশের সন্দেহ ঘনীভূত হয় ওই বৃদ্ধার দিকেই।
জানা যায় যে, রূপালির স্বামী বিলাস গাঙ্গুরে রেলে চাকরি করতেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর নিয়ম অনুসারে গ্র্যাচুইটির ৯-১০ লক্ষ টাকা পান রূপালি। সেই টাকা এবং স্বামীর চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নিয়েই শুরু হয় শাশুড়ি ও বৌমার মধ্যে তীব্র ঝামেলা।
পুলিশের দাবি, লতা চাইছিলেন যে ওই চাকরি যেন ভবিষ্যতে তাঁর নাতির জন্য রাখা হয়। কিন্তু সংসার চালানোর জন্য এখনই চাকরি প্রয়োজন। তাই এতে রাজি হননি রূপালি। তারপর ওই বিরোধ থেকেই খুনের ছক কষা হয়।
অভিযোগ, লতা তাঁর পরিচিত জগদীশ নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে রূপালিকে লোহার রড দিয়ে মারধর করান। তারপরে সেই অবস্থায় তাঁকে সেতুর পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে যে, জিজ্ঞাসাবাদ করার পর লতা তাঁর নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যেই লতা এবং অভিযুক্ত জগদীশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার তাঁদের আদালতে তোলা হবে।
পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, টাকা এবং চাকরি নিয়ে বিবাদ থেকেই ঠান্ডা মাথায় এই খুন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications