৬০ থেকে ৫০ করা হল বার্ধক্যভাতা পাওয়ার বয়স, বড় ঘোষণা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের
বছর ঘুরলেই দুয়ারে লোকসভা ভোট। তার আগেই বড়সড় ঘোষণা করল ঝাড়খণ্ড সরকার। ওই রাজ্যের বার্ধক্যভাতার উপভোক্তাদের বয়স এক ধাক্কায় ১০ বছর কমিয়ে দেওয়া হল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন আজ শুক্রবার এই ঘোষণা করেছেন। ৬০ বছর বয়স ছিল বার্ধক্যভাতার। সেই বয়স কমিয়ে ৫০ করা হল৷
রাজ্যে জেএমএম-নেতৃত্বাধীন সরকারের এবার চার বছর পূর্তি। সেই উপলক্ষে রাঁচির মোরাবাদি মাঠে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানেই ভাষণ রাখেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন। সেখানেই এই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজ্যে অফিস স্থাপনকারী সংস্থাগুলিতে স্থানীয়দের জন্য ৭৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করবে। নি:সন্দেহে এই ঘোষণা ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে আনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু হঠাৎ করে বার্ধক্যভাতার বয়সসীমা কমিয়ে আনা হল কেন?
কী যুক্তি দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী? হেমন্তের মতে, সরকার ৫০ বছর বয়সে উপজাতি ও দলিতদের ভাতার আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি। তারা ৬০ বছর পরে চাকরি পান না। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, ২০০০ সালে ঝাড়খণ্ড গঠন হয়। তারপর ২০ বছরে মাত্র ১৬ লক্ষ লোক ভাতার সুবিধা পেয়েছিলেন। তাঁর সরকার ইতিমধ্যে ৩৬ লক্ষ লোককে ভাতা দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, ১৮ বছরের বেশি বয়সী বিধবা এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও ভাতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সরকারের প্রচার কর্মসূচি 'আপকি যোজনা, আপকি সরকার, আপনাকে দ্বার' প্রচার অবিরত চলছে। সরকারি প্রকল্প সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে। বহু সংখ্যক প্রকল্প প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রাজ্যের আগের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন হেমন্ত। জাফরান পার্টিকেও আক্রমণ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যারা পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্যের আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল, তারা ২০ বছর ধরে ক্ষমতা দখল করেছে। লুট করেছে দীর্ঘ সময় ধরে।
ঝাড়খণ্ড তৈরি হওয়ার সময় রাজ্যের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল। কিন্তু সেই টাকা আগের সরকার লুট করেছে। ১৯ বছর ধরে এই লুটের কারণে রাজ্য অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জোরালো দাবি করেছেন হেমন্ত সরেন।












Click it and Unblock the Notifications