উত্তরাখণ্ডের তুষারধস থেকে উদ্ধার ৪৭ জন শ্রমিক, এখনও আটকে ৮ জন, দ্রুতগতিতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী
উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে তুষারধসের ঘটনায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরতে চলেছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী চামোলি জেলার মানা অঞ্চলে বরফের তলায় চাপা পড়ে থাকা আরও শ্রমিকদের উদ্ধার করেছে, যার ফলে মোট উদ্ধার হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৪৭-এ পৌঁছেছে। তবে উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক, বিশেষ করে একজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলেই জানা যাচ্ছে।
শুক্রবার সকালে বিআরও শিবিরে ভয়াবহ তুষারধসের পর ৫৫ জন শ্রমিক বরফের নিচে চাপা পড়েন। চরম আবহাওয়া সত্ত্বেও, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে রাতভর অভিযান চালিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধার করছে। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত মানা সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার অভিযান ও পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই প্রসঙ্গে জানান, "প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের আবহাওয়া পরিস্থিতি ও চলমান উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবে"।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আবহাওয়া উন্নত হলে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে গুরুতর আহত শ্রমিকদের দ্রুত এয়ারলিফট করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। একই সাথে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে চামোলি পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলেই জানা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, "ভগবান বদ্রীনাথের আশীর্বাদ ও উদ্ধারকারী দলের প্রচেষ্টায় আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে"।
রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বিনোদ কুমার সুমন জানান, প্রথমে মনে করা হয়েছিল ৫৭ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তবে পরে জানা যায় দু'জন ছুটিতে ছিলেন, ফলে আটকা পড়াদের সংখ্যা ৫৫ জন। যার মধ্যে ৪৭ জনকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্যোগের পরপরই ভারতীয় সেনাবাহিনী, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP), জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (SDRF) একসঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ১৫০ জনেরও বেশি সেনা সদস্য শীতের প্রতিকূল পরিবেশেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেই জানা যাচ্ছে।
উদ্ধারকারীদের মতে, সাত ফুট গভীর তুষারের নিচে আটটি কন্টেইনার ও একটি কুঁড়েঘর চাপা পড়েছে, যেখানে শ্রমিকরা অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই এই পুরু বরফ সরিয়ে তাঁদেরকে উদ্ধার করা হচ্ছে। তবে অবিরাম তুষারপাত ও বৃষ্টির কারণে কর্তৃপক্ষ আরও তুষারধসের আশঙ্কা করছে। ফলে খানিকটা বিপদ মাথায় নিয়েই উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।












Click it and Unblock the Notifications