Manipur: হিংসার মধ্যেই জন্ম, নতুন জীবনের আশা নিয়ে ত্রাণশিবিরে বেড়ে উঠছে ২০০ শিশু
এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি মণিপুর। অসংখ্য বাসিন্দা এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি। তাঁদের ঘরবাড়ি এখনও অক্ষত রয়েছে কিনা সেটাও তাঁরা জানেন না। কিন্তু বাঁচার আশা ছাড়েননি। এই হিংসা বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতেই নতুন দিনের আশা নিয়ে জন্মেছিল শ দুয়েক শিশু।
জন্মেই ঘরছাড়া তারা। চোখ খুলেছে ত্রাণ শিবিরেই। সেখানেই খেলতে খেলতে মায়ের কোেল বড় হচ্ছে তারা। হিংসা কাকে বলে হানাহানি কি জিনিস এখনও জানে না তারা। মায়ের কোলে খেলতে খেলতেই বেড়ে উঠছে তারা। এই সদ্য মা হওয়া তরুণীদের কাছে এই হিংসা বিধ্বস্ত মণিপুরের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের সন্তান।

ত্রাণশিবিরে থাকা হাতনেউ তারক ১১ মাসের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন ময় এই ১১ মাসে সবচেয়ে আনন্দের দিন তাঁর সন্তানের জন্মের দিন। সেদিন তাঁর কোল আলো করে এসেছিল এই নতুন জীবন। নতুন করে বাঁচতে শিখেছেন তিনি তাঁর সন্তানের জন্যই।
কাকচিং জেলা থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল এই ত্রাণশিবিরে। কোলে তখন তাঁর দুই জমজ সন্তান। এখন চার মাসে বয়স তাদের। সেই বছরের সব হংসা, ধ্বংসের কথা সে আর মনে রাখতে চায় না। সে কেবল মনে রাখতে চায় তাঁর মা হওয়ার আনন্দের কথা।
কথায় কথায় তিনি জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মেয়েদের সবচেয়ে যত্ন নিতে হয় নিেজদের। সুস্থ সন্তানের জন্যই সেই যন্ত নেওয়া জরুরি। কিন্তু চূড়াচন্দ্রপুরে যে সময় হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল সেসময় নিজেকে আর নিজের গর্ভস্থ সন্তানদের বাঁচাতে একটি বাঁশের সরঞ্জাম তৈরির দোকানে লুকিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কুকি সম্প্রদায়ের হলেও তাঁকে এখানে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই শরণার্থী শিবিরেই গতমাসে তিনি তাঁর কন্যা সন্তানের জন্মদেন। এই শরণার্থী শিবিরেই আরও ১৫ শিশুর জন্ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হেথনেউর মতোই ত্রাণ শিবিরে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন নগঝেমকিম। তিনি জানিয়েছেন এতো খারাপের মধ্যেও আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ভাল দিন হল আমার সন্তানের জন্মের দিন। তিনি জানিয়েছেন তাঁর সন্তান যে বাঁচবে সেই আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সত্যিই যে চমৎকার হয় সেটা তিনি বুঝতে পেরেছেন তাঁর সন্তানের জন্মের পরে। আট মাসের গর্ভাবস্থার সময় তিনি এসেছিলেন এই চূড়াচন্দ্রপুর ক্যাম্পে। এখন ৯ মাস বয়স হয়ে গিয়েছে তাঁর মেয়ের। হামাদিয়ে ঘুরে বেড়ায় তাঁর শিশুকন্যা। এই ১১ মাসে এই ক্যাম্পে ১৬৪ জন মহিলা তাঁদের সন্তানের জন্ম দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications