ডাইনি সন্দেহে দম্পতিকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে অসমে গ্রেপ্তার ১৮
কুসংস্কারের অন্ধ বিশ্বাস ফের রক্তাক্ত করল অসমকে। ডাইনি বিদ্যার সন্দেহে এক দম্পতিকে পিটিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগে অসমের কার্বি আংলং জেলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে চারজন মহিলা রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর কার্বি আংলং জেলার হাওরাঘাট এলাকার বেলোগুড়ি মুন্ডা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। গ্রামবাসীদের একাংশ ওই দম্পতির বিরুদ্ধে ডাইনি বিদ্যা চর্চার অভিযোগ তোলে। এলাকার মানুষের অসুস্থতা ও দুর্ভাগ্যের জন্য তাঁদের দায়ী করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে দম্পতির বাড়িতে ঢুকে তাঁদের উপর চড়াও হয়। মারধরের পর দু'জনকেই আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
কার্বি আংলং জেলার পুলিশ সুপার পুষ্পরাজ সিং জানান, দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, "এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত এগোলে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।"
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আসাম উইচ হান্টিং (নিষেধাজ্ঞা, প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনে মামলা রুজু করেছে। এই আইনে ডাইনি সন্দেহে হেনস্থাকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ নম্বর ধারা (খুন) সহ একাধিক ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, এই অপরাধে একাধিক ব্যক্তির সম্মিলিত ভূমিকা থাকায় প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা চিহ্নিত করা বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা ওই গ্রামে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও কুসংস্কার গভীরভাবে প্রোথিত। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে সচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications