লোকো পাইলটরা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, সমস্যা তুলে ধরে ১৭ বিরোধী সাংসদের চিঠি রেলমন্ত্রীকে
লোকা পাইলটদের সমস্যা নিয়ে রেলমন্ত্রী অস্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখলেন বিেরাধী দলগুলির ১৭ জনের বেশি সাংসদ। বুধবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রেলমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, বিরোধীরা লোকো পাইলটদের নিয়ে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।
রেলমন্ত্রী দাবি করেছিলেন ২০২৪-এর জুনে লোকো পইলটদের ডিউটি আটঘন্টারও কম করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, দেশের প্রায় সাত হাজার লোকো ক্যাব এবং প্রায় সব চলমান কক্ষগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

- লোকো পাইলটদের আবেদন
অন্যদিকে লোকো পাইলট ইউনিয়নের পরে অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন বিরোধী সাংসদদের কাছে গিয়ে তাঁদের সমস্যাগুলি রেলমন্ত্রীর নজরে আনতে অনুরোধ করেন। এব্যাপারে পাঁচ সাংসদ আলাদা করে চিঠি লিখেছেন। এছাড়া বারোজন সাংসদ লোকো পাইলটদের জন্য বেশি সুবিধা ও বিস্রামের দাবি জানিয়ে নোট পাঠিয়েছিলেন।
দক্ষিণের লোকো পাইলটরা পয়লা জুন থেকে ২৮ দিনের জন্য সাপ্তাহিত ত্রিশ ঘন্টা বিশ্রামের সময়ের সঙ্গে হেড কোয়ার্টারে ১৬ ঘন্টা, সব মিলিয়ে ৪৬ ঘন্টা বিশ্রামের প্রতিবাদ করেছে। কারণ এব্যাপারে তাদের অনুকূলে কর্ণাটক হাইকোর্টের রায় রয়েছে।
- কী বলেছেন বিরোধী সাংসদরা
ডিএমকের রাজ্যসভার সংসদ এমন সম্মুগম তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, অত্যাধিক ক্লান্তি আর অর্যাপ্ত বিশ্রামের কারণে লোকো পাইলটদের মধ্যে সতর্কতার অভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, রেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত হাই পাওয়ার কমিটি যেখানে সুপারিশ করেছে রানিং স্টাফদের জন্য রাতের ডিউটি দুটি রাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তারপর রাতের ডিউটির ক্ষেত্রে মধ্যে একরাতের বিশ্রাম দিতে হবে।
কিন্তু বর্তমানে রেলের নিয়মে একটানা চাররাতের দায়িত্ব পালনের কথা বলে। লোকো পাইলট রা তা কমিয়ে দুই রাত করার দাবি করেছেন। যাঁরা সাপ্তাহিক ছুটি নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি করেছেন তিনি।
সিপিআইএম সাংসদ এস বেঙ্কটেসন বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেড কোয়ার্টারের বিশ্রামের ১৬ ঘন্টার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টানা ৩০ ঘন্টা বিশ্রাম হিসেবে লোকো পাইলটদের সাপ্তাহিক বিশ্রাম দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
সিপিআইএম রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস তাঁর চিঠিতে বলেছেন কর্মীদের প্রায়ই ১০ ঘন্টার বেশি কাজ করতে হয়। যা বিভিন্ন কমিটির আশ্বাসকে লঙ্ঘন করে। তিনি বলেছেন, এই ধরনের দীর্ঘায়িত কাজের সময় শুধুমাত্র কর্মীদের সুস্থতা এবং দক্ষতাকে প্রক্ষাবিত করে না, বরং রেলের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুকে ঠেলে দেয়। এছাড়া বাড়ি থেকে কাজের ক্ষেত্র অনেক দূরে হওয়ায় অনেক কর্মীই পারিবারিক দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন।
এছাড়াও সিপিআইএম সাংসদ ১৮ জন লোকো পাইলটকে বরখাস্ত, ১৬ জনকে প্রশাসনিক বদলি এবং ১৭ জনকে বড় জরিমানা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। এইসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেবল কর্মীদের মনোবলহীন করে না বরং কাজের চাপ এবং কর্মক্ষমতাকে মারাত্মক প্রভাবিত করে।












Click it and Unblock the Notifications