রাজীব কি শেষে 'বিভীষণ' হলেন? হাওড়ায় একের পর এক বিধায়কের বিদ্রোহী হওয়ার নেপথ্যে কে? বাড়ছে জল্পনা
রাজীব কি শেষে 'বিভীষণ' হলেন? হাওড়ায় একের পর এক বিধায়কের বিদ্রোহী হওয়ার নেপথ্যে কে? বাড়ছে জল্পনা
ঘরের শত্রু বিভীষণই রাবণের সোনার লঙ্কার পতন ঘটিয়েছিল। আর বিজেপির সোনার বাংলা গড়তে গড়তে সাহায্য করছে কোন বিভীষণ! শুধুই কি টিকিট না পাওয়ার অসন্তোষে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন হাওড়ার একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক। নাকি এর নেপথ্য রয়েছে রাজীবের হাত। এই নিয়ে জল্পনা চড়ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে অসন্তোষে ঘি ঢেলে রাজীবই ভাঙিয়ে নিয়ে আসছেন একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ককে।

বিদ্রোহ হাওড়ায়
প্রথম থেকেই হাওড়ায় শাসক দলের গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব মাত্রা ছাড়িয়েছে। ভোটের আগে তো সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব লাগাম ছাড়া হয়েছে দলনেত্রীরও। রাজীব বিজেপিতে যাওয়ার পর বলতে গেলে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে শাসক দল। হাওড়ায় গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব যে প্রকট আকার নিয়েছে তা লক্ষ্মীরতন শুক্লার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এই গোষ্ঠিদ্বন্দ্বের নেপথ্যে অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন বৈশাখী ডালমিয়া। তিনি বিদ্রোহী হয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। রাজীবের সঙ্গে এক বিমানে চড়েই বৈশাখী, হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীরা দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন।

প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ
এবার প্রথম থেকেই শাসক দলের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল। মূলক নবীনদের সামনে রেখে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। সেকারণেই হওড়ায় একািধক কেন্দ্রে পুরনো প্রবীণ বিধায়কদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রার্থী তালিকা থেকে। তার জায়গায় নবীন এবং তারকাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শিবপুরেও এতোদিনের বিধায়ক জটু লাহিড়িকে বাদ দিয়ে ক্রিকেট তারকা মনোজ তিওয়ারিকে প্রার্থী করা হয়েছে। হাওড়ার সাঁকরাইলেও তাই হয়েছে।

বিদ্রোহী জটু, শীতল
টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিবপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জটু লাহিড়ি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। কাউকে না জানিয়েই তিনি একা গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলের বিরুদ্ধে একেবারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন এবার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বিজেপি করে যাবেন। অন্যদিকে আবার সাঁকরাইলের বিধায়ক শীতল সর্দারও বেঁকে বসেছেন। টিকিট না পেয়ে জটু লাহিড়ির পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জটু লাহিড়ির মতোই বিজেপিতে যোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশে দলবল নিয়ে বিজেিপতে যোগ দেবেন তিনি।

নেপথ্যে কে
একের পর এক হাওড়ায় শাসক দলের বিধায়কের বিদ্রোহী হয়ে ওঠার নেপথ্যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজীব ডোমজুড় থেকে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আগেই সেকথা জানিয়েছেন রাজীব। তবে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু তার আগেই হাওড়াকে তৃণমূল শূন্য করতে রাজীবকে ব্যবহার করছে বিজেপি। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক দল। বালি ডোমজুড় বিজেপির দখলে থাকবে নিশ্চিত করে ফেলেছেন শাহরা। কিন্তু বাকিগুলো। সেগুলোতে থাবা বসানো হবে কী করে। তাই আগে থেকেই ভেবে চিন্তে রাজীবকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নইলে প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পরেই বিদ্রোহী বিধায়করা একের পর এক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করত না। বিজেিপতে গেলেই যে তাঁদের সেই কেন্দ্রের টিকিট দেওয়া হবে এমন নয়। তাহলে কিসের টোপ দিয়ে তাঁদের বিজেপিতে আনা হচ্ছে। যে পরিকল্পনার নেপথ্যে রাজীব রয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অত্যন্ত সুকৌশলে বিজেপি হাওড়ার তৃণমূল শিবিরে সিঁদ কাটতে শুরু করেছে। লোকসভা ভোটেও হাওড়ায় ভাল ভোট পেয়েছিল বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications