Jagaddhatri Puja: শাড়ি, গয়না পরে এখানে পুরুষরাই করেন দেবীবরণ, কিন্তু কেন এই রেওয়াজ?
দেবীবরণ চলছে। অনেকে লাইনেও দাঁড়িয়ে আছেন। তারাও দেবীবরণ করবেন। কিন্তু কোথাও যেন খটকা রয়েছে! যারা জগদ্ধাত্রীকে বিদায়ের আগে বরণ করছেন, তারা কি মহিলা? অনেককেই তো মনে হচ্ছে পুরুষ। কেমন যেন পুরুষালি চেহারা। কেবল শাড়ি ও মহিলাদের অন্যান্য পোশাক গায়ে জড়ানো।
না। কেউ কেউ নন। যারা দেবী বরণ করছেন তারা সকলেই পুরুষ। মহিলারা এখানে কেউ পুজোয় বরণ করেন না। মহিলারা নন। মহিলা সেজে পুরুষরা করেন দেবীবরণ। এভাবেই বরণ হয় ভদ্রেশ্বর তেঁতুলতলা জগদ্ধাত্রী বারোয়ারিতে। এই রীতি চলে আসছে প্রায় ২৩০ বছর ধরে। এবারে সেই রেওয়াজ ২৩১ বছরে পড়ল।

কিন্তু কেন এমন প্রথা? এই ঘটনার কারণ জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ব্রিটিশ আমলে৷ কারণ, সেই থেকেই এই লোকাচার চলে আসছে। কথিত আছে ব্রিটিশরা ঘাঁটি গেড়েছিল ভদ্রেশ্বর গৌরহাটি এলাকায়। সেই সময় নিরাপত্তার কারণে মহিলারা বাড়ি থেকে বের হত না। তৎকালীন সময়ে জগদ্ধাত্রী পুজোর আচার অনুষ্ঠান পুরুষরাই সামলাতেন।
এমনকী পরিবারের মহিলারা যেভাবে বাড়ির ঠাকুরকে বরণ করতেন। সেভাবেই পুরুষরা বরণ করতেন তেঁতুলতলা বারোয়ারির জগদ্ধাত্রী প্রতিমাকে।মহিলাদের মতোই শাড়ি পরে মাথায় সিঁদুর লাগিয়ে বরণ করা হত। দুই শতক পেরিয়ে গিয়েছে। জীবনযাত্রায়, বৈচিত্র্যতে অনেক বদল এসেছে। কিন্তু এই প্রথা রয়ে গিয়েছে।
আজও এলাকার পুরুষরাই বরণডালা নিয়ে বরণ করেন প্রতিমা। সেই রীতি আজও পালন করা হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। দেবীকে সিঁদুর পরানো, মুখে মিষ্টি আর দুই গালে যত্ন করে পান বোলান তারা। আর এই বরণ দেখতে ভিড় জমান এলাকার মহিলারাও। বরণ ঘিরে চলে এক হইহই ব্যাপার। অন্যান্য জায়গা থেকেও মানুষজন এই বরণ দেখতে আসেন।
চন্দননগরে সকাল থেকে শুরু হয়েছে জগদ্ধাত্রী প্রতিমার বিসর্জন। রাতে হবে জগদ্ধাত্রীর শোভাযাত্রা। যা চাক্ষুস করতে প্রতি বছর ভিড় জমান কয়েক লক্ষ দর্শণার্থী। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ছাড়া বাকি বারোয়ারির প্রতিমা বিসর্জন হয় দিনের বেলায়। সেই সকাল থেকেই চলছে জগদ্ধাত্রী প্রতিমা বিসর্জন। ঢাক ঢোল নিয়ে মহা সারম্বরে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন। সিঁদুর খেলায় মেতেছে মহিলারা।












Click it and Unblock the Notifications