'BPL বিধায়ক আমি', রচনার প্রচার থেকে ফিরেই হঠাৎ ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট মনোরঞ্জন ব্যাপারীর
ভোটের প্রচার যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট করলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যপারি। ফেসবুকে হঠাৎ করে নিজেকে BPL বিধায়ক বলে দাবি করেছেন তিনি। মনোরঞ্জন ব্যাপারী ফেসবুকে লিখেছেন, 'এই তিন বছরে না আমি হয়ে উঠতে পারলাম পুরোপুরি বিধায়ক, না আমাকে কেউ মানতে পারলো আস্ত একটা বিধায়ক হিসাবে। '
এখানেই শেষ নয় তিনি ফেসবুকে একেরপর এক বিতর্কিত মন্তব্য লিখেছেন। তৃণমূল বিধায়ক লিখেছেন,'আমার হাতের দশ আঙুলে বারো পনেরটা সোনার আংটি নেই, গলায় দশ তোলা সোনার চেন নেই, সেই সাড়ে তিনশো টাকা দামের ফতুয়া প্যানট- এ কেমন বিধায়ক! লোকে মানবে কেন আমাকে বিধায়ক বলে? পহেলা দর্শনধারী পিছে তো গুন বিচারি! সত্যি বলতে কী আমিও কতবার ভেবেছি আমার একটা লাখ টাকা মূল্যের সোনার চেন গলায় ঝুলুক। হাতের সব কটি আঙুলে ঝকমক করুক সোনার আংটি। কিন্তু দমে কুলায়নি।'

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর এই ফেসবুক পোস্ট লোকসভা ভোটের আগে শাসক দলকে যে অস্বস্তিতে ফেলেছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এবার হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে জনপ্রিয় নায়িকা রচনা ব্যনার্জিকে। বাংলা েটলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো দিদি নম্বর-১ এর সঞ্চালনা করেন রচনা। বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রচনাকে প্রার্থী করে এক কথায় মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এরই মধ্যে হঠাৎ করে মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ফেসবুক পোস্ট সংকট বাড়িয়েছে শাসক দলের অন্দরে। কাকে উদ্দেশ্য করে বিধায়ক এই পোস্ট করলেন তাও আবার ভোটের মুখে তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই প্রথম নয় এর আগেও একাধিক মন্তব্যে বিতর্ক বাড়িয়েছেন তিনি। বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক এর আগে প্রাণ নাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকী দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি।
তিনি প্রকাশ্যে কয়েকমাস আগে বলেছিলেন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে দলেরই একাংশ। তারপরে দলের পক্ষ থেকে তাঁকে সচেতনও করা হয়েছিল। এদিন আবার ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক তৈরি করলেন বিধায়ক। তিনি লিখেছেন, 'একাশি হাজার সাতশো আশি টাকা বেতন পাই।যা থেকে কম বেশি বেতন দিয়ে ছয়জনকে পালন পোষন করতে হয়, নিজের খাই খরচ আছে,তার উপর দুজন সিকিউরিটি একজন ড্রাইভার এদেরও খাওয়াতে হয়। আমার একটা অফিস আছে। সকাল বিকালে চায়েও শখানেক উড়ে যায়। একটা গাড়ি চড়ি। তাতেও কিছু খরচ লাগে। এত কিছুর পর সোনার স্বপ্ন দেখার সাহস হয়না। তাই বিধান সভায় আমার পরিচয় বিপিএল বিধায়ক হিসাবে। এমন বিধায়ককে কী ইতিহাস ক্ষমা করবে?'












Click it and Unblock the Notifications